দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্ড মার্কেট বিকাশে আইএফসির সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার একটি অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ২০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বন্ড জারি করতে আইএফসির সহায়তা এবং সহযোগিতায় বিশ্বে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ভিত্তিতে ৮০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি ‘টাকা বন্ড’ চালু হয়েছিল, যা আগামী এক বছরে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা বা এক বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বন্ডে উন্নীত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল আইএফসি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত ছিল। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাজারে জারি করা প্রথম বাংলাদেশি টাকা বন্ড। পরে করোনার কারণে এটি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গেলেও আশা করা যায়, এখন আবার আইএফসি এ খাতটি সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আইএফসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আইএফসিকে সুদের হার হ্রাস করার অনুরোধ করছি, যাতে বেসরকারি খাত স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাবর্তন করতে পারে।’ বাংলাদেশের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ বিশেষ করে বন্ড মার্কেট উন্নয়নের জন্য তিনি আইএফসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে সভায় আরও অংশ নেন বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। এছাড়া আইএফসির চিফ অপারেটিং অফিসার স্টিফানি ফন ফ্রিডবার্গের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলফোনসো গার্সিয়া মোরা এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার আলোচনায় অংশ নেন।

সভার প্রারম্ভে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইএফসির অবদানের প্রশংসা করেন। এছাড়া কভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে ৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার সাম্প্রতিক উদ্যোগের জন্যও ধন্যবাদ জানান।

আবদুর রউফ তালুকদার সভায় বলেন, আর্থিক খাত পুনর্গঠন ও সুদের হার ক্যাপিংয়ে আমরা কাজ করে চলেছি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সলভেনসি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টসহ বেশ কিছু অ্যাক্ট প্রণয়নের কাজে করছে, যা আমাদের আর্থিক খাত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের সরকার কভিড-১৯ টিকা ক্রয়ের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী এবং বদ্ধপরিকর। অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব মানুষের মধ্যে এর বিতরণ নিশ্চিতের আশা প্রকাশ করেছেন। তাই এ খাতে আমাদের বড় অঙ্কের অর্থের সংস্থানের বিষয়টিও জড়িত। আমাদের দেশীয় তিনটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানকে টিকা তৈরি করার উপযোগী করতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, টিকা আবিষ্কারের ছয় মাসের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে টিকা প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে। যেহেতু আমাদের বিশাল জনসংখ্যার জন্য সব টিকাই আমদানি করা সম্ভব নয়, তাই আমরা দেশীয় টিকার ওপরও গুরুত্ব দেব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..