সম্পাদকীয়

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার দুর্ভাগ্যজনক

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রায়ই বন্ড সুবিধায় বিনা শুল্কে আমদানি করা কাপড়ের চালান রাস্তা থেকেই গায়েব হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। কখনও ট্রাকসহ, কখনও বা ট্রাক থেকে গায়েব হয় কাপড়ের রোল। এসব কাপড় সংশ্লিষ্ট গার্মেন্ট কারখানায় না ঢুকে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। শুধু রাস্তা থেকেই নয়, বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থেকেও ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান প্রতিদিন সারি বেঁধে প্রবেশ করছে ইসলামপুরে। দেশের স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠানও বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রিতে জড়িত বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আসছে।

বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্য পাচার বা খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে বন্ড অটোমেশন প্রকল্প গ্রহণ জরুরি। যারা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এ সুবিধাকে আধুনিকায়ন বা অটোমেশন করতে হবে। বিশ্বের অন্য দেশগুলো কীভাবে বন্ড সুবিধা দেয়, সে বিষয়ে গবেষণার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ লক্ষ্যে অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) এবং কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিনিময়ের আয়োজন করা যেতে পারে। অটোমেশন বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের সেবা খাতে অসাধু চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ হবে বলেই বিশ্বাস। এতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে যাওয়াও বন্ধ হবে। তা হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রিভেনটিভ টিমগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য জব্দ করতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুসারে বিভাগীয় মামলা করার পাশাপাশি তাদের বন্ডিং কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য খতিয়ে দেখাও জরুরি ।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট: লাইসেন্সধারী ৬৬২৬ প্রতিষ্ঠানের ‘অর্ধেকই’ বন্ড অনিয়মে জড়িত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বন্ড ব্যবসার স্বরূপ উšে§াচিত হয়েছে। খবরে বলা হয়, বন্ড লাইসেন্স সচল রয়েছে ৩ হাজার ১৩৯টি ও অচল ৩ হাজার ৪৮৭টি। পোশাকশিল্প মালিকরা এ ধরনের চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত না থাকলে দেশীয় বস্ত্র শিল্প বিপর্যয় ঘটত না। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে বন্ডের ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের নজরদারিতে রাখতে হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এনবিআর বলছে, ‘প্রতিবছর বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে যে পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হয়, তা দিয়ে কমপক্ষে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব।’ কিন্তু এও বিবেচনায় নিতে হবে যে, বন্ডেড পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ক্ষতিতে পড়ছে দেশীয় শিল্প। এ কারণে প্রত্যাশিত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা। তাই কোনোভাবেই বন্ড সুবিধার অপব্যবহার মেনে নেয়া যায় না। এটি শূন্য সহশীলতায় রুখতে হবে। সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..