সম্পাদকীয়

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নিন

শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহারের কারণে দেশে অন্তত ৬০ শতাংশ বস্ত্র কারখানা বন্ধ। রপ্তানিমুখী সুতা এবং কাপড় উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত মিলগুলোও চোরাই পথে আমদানি করা সুতার কারসাজিতে বিপদে পড়েছে। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ। অথচ তাদের বন্ড লাইসেন্স ব্যবহার করেও আমদানি চলছে।

প্রায়ই বন্ড সুবিধায় বিনা শুল্কে আমদানি করা কাপড়ের চালান রাস্তা থেকেই গায়েব হয়ে যায়। কখনও ট্রাকসহ, কখনও আবার ট্রাক থেকে গায়েব হয় কাপড়ের রোল। এসব কাপড় সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টে না ঢুকে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রায়ই আসছে। তবে শুধু রাস্তা থেকেই নয়, বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থেকেও শত শত ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান প্রতিদিন সারি বেঁধে প্রবেশ করছে ইসলামপুরে। দেশের স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠানও বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রিতে জড়িত। কেউ নামমাত্র কয়েকটি মেশিন বসিয়ে বন্ড লাইসেন্সে শুধু কাপড় এনে খোলাবাজারে বিক্রি করছে, এটাই তাদের ব্যবসা।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে ‘বন্ধ প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধায় কাপড় আমদানি!’ শীর্ষক প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, চারটি বিল অব এন্ট্রিতে ১০৩ টন কাপড় আমদানি হয়েছে। এগুলো রপ্তানি না করে বিক্রি হয়েছে খোলাবাজারে বিক্রি। রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে।

রপ্তানির হদিস করতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। বন্ড সুবিধা নিয়ে এমন জালিয়াতি করেছে গাজীপুরের এআরএইচ নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

পোশাকশিল্প মালিক নামধারী অনেকে এ ধরনের চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। এতে দেশীয় বস্ত্র শিল্প বিপর্যয়ের শিকার। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে বন্ডের ফাঁকি রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদেরও নজরদারিতে রাখতে হবে। আর যাদের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

কারখানা মালিকদের তথ্যমতে, প্রতি বছর অন্তত ৩০০ কোটি ডলারের সুতা, কাপড় ও পোশাক সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এসব থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। প্রতিটি আইটেমে সর্বনিন্ম ৩৭ শতাংশ শুল্ককর আছে। এ হিসাবে শুধু বন্ডের কারণে দেশ ১০০ কোটি ডলার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনবিআর সাবেক একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে দেশ যে রাজস্ব হারায়, সেটি দিয়ে বছরে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে দেশে কয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে বন্ড লাইসেন্স আছে এবং কারখানা বন্ধ থাকার পরও বন্ড লাইসেন্স আছে কয়টির সে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। অটোমেশন কার্যকর করলে তা সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি বন্ধ হলে সৎ ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..