সম্পাদকীয়

বন্দর থেকে কনটেইনার খালাসে গতি আনুন

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে প্রায়ই আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার সময়মতো খালাস না হওয়ায় বন্দরে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হয়। গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদনে ছিল কনটেইনার জট নিয়ে। খবরে বলা হয়, ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের প্রভাবে বন্দর থেকে ৮৬ শতাংশ কনটেইনার খালাস হয়নি।

কভিড সংক্রমণ রোধে গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। এ সময় বেশিরভাগ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য খালাস অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এ অবস্থায় আমদানি-রপ্তানিতে যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সে জন্য সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে। কভিডের সংক্রমণ মোকাবিলায় লকডাউন যেমন জরুরি, তেমনই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও অব্যাহত রাখতে হবে।

অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্দরের জট কমাতে সব ধরনের আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে সরিয়ে নেয়ার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রোববার দুপুরে এ-সংক্রান্ত দাপ্তরিক আদেশ জারি করে এনবিআর। এ আদেশ জারির ফলে পণ্যবোঝাই কনটেইনার বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না। নতুন আদেশের ফলে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি পণ্য ডিপোতে নিয়ে খালাস করতে পারবেন আমদানিকারকরা।

এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দর অভ্যন্তর থেকে কনটেইনার খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দু-তিন দিন পর বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চিঠি দেয়া এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রশংসনীয়। সত্যি বলতে, এখানে কালক্ষেপণের সুযোগও ছিল না। এখন অফডকে (বেসরকারি আইসিডি) কনটেইনার সরানোর অনুমোদন দেয়ায় আপাতত বন্দরে কনটেইনার জট হবে না। বিধিনিষেধ চলাকালে খোলা থাকা কারখানাগুলোর কাজে বিঘ্ন ঘটবে না। তারা পণ্য খালাস করে কারখানা স্বাভাবিক রাখতে পারবে।

বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্য চালান বেসরকারি ডিপোতে সংরক্ষণ, আনস্টাফিং ও ডিপো থেকে খালাসের যাতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বন্দর থেকে অফডকে নেয়ার সময় যথারীতি স্ক্যানিং এবং বাণিজ্যিক পণ্য ডিপো থেকে খালাসকালে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতি বছরই ঈদের সময় বন্দরগুলোয় কনটেইনারজট দেখা দেয়। স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাড়ে তিন হাজার কনটেইনার খালাস হয়। এবারও ঈদের পরদিন থেকে পরবর্তী তিন দিনে মাত্র ৩৯টি কনটেইনার খালাস করতে পেরেছেন আমদানিকারকরা। তবে অফডক থেকে পণ্য খালাস স্থায়ী সমাধান নয়। এতে সাময়িক সুবিধা হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে খরচ ও সময় অনেক বেড়ে যাবে। তাই কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করে সরাসরি কারখানায় পণ্য আনা-নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়, তাও ভাবতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..