প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বন্দর পরিচালনায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ইয়ার্ড ও টাগবোট

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশে আমদানি-রপ্তানির প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দরের সক্ষমতার ওপর অনেকখানি নির্ভর করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সবসময় কর্মপ্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোয় মনোযোগী। এর অংশ হিসেবে নতুন বছরের চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে আজ থেকে পরিচালন কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইয়ার্ড। এ ইয়ার্ডে বছরে ১৬ লাখ কনটেইনার রাখা যাবে। এছাড়া বন্দরের বহরে নতুন টাগবোট যুক্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, করোনার ভয়াবহ সংকট কাটিয়ে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার হ্যান্ডলিং আগের তুলনায় তিন লাখ ৭৫ হাজার কনটেইনার বেশি হয়েছে। ২০২০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। আর ২০২১ সালে বন্দরে প্রায় ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। যদিও ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউএস। গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখেরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য শুভ লক্ষণ। এদিকে নতুন বছরে সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন একটি কনটেইনার ইয়ার্ড চালু হচ্ছে আজ। চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন এ ইয়ার্ড উদ্বোধন করবেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের পুরোনো ডক লেবার কলোনির পাশে সাড়ে ৩৪ একর জমিতে এ ইয়ার্ডটি নির্মাণ করা হয়েছে। আর নিউমুরিং ওভার ফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড নামের এ ইয়ার্ডে ১৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার রাখা যাবে। অবশ্য ইয়ার্ডের গ্রাউন্ডে কইটেইনার রাখা যাবে চার হাজার। ফোর হাই করে চার স্তরে এই ইয়ার্ডে ১৬ হাজার কনটেইনার রাখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ ইয়ার্ডটি বন্দরের নিউমুরিং কনটেনার টার্মিনাল (এনিসিটি) এবং চিটাগং কনটেনার টার্মিনালের (সিসিটি) সার্বিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর এ ওভার ফ্লো ইয়ার্ডের কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলেও এনসিটি ও সিসিটির মূল জেটি ও ইয়ার্ডের ওপর চাপ কমে আসবে।

এছাড়া আজ বন্দরের বহরের নতুন টাগবোট যুক্ত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এ টাগবোট বুঝিয়ে দেবে। যদিও ২০১৭ সালে জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি টাগবোট নির্মাণের চুক্তি করে। কিন্তু মূলধন সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, পরিচালকদের দ্বন্দ্ব ও করোনা ইত্যাদি কারণে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড টাগবোট নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নৌ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি আমাদের ১নং জেটিতে টাগবোট হস্তান্তর, সার্ভিস জেটি, ওভার ফ্লো ইয়ার্ড উদ্বোধন হতে চলেছে, যা আমাদের দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। এতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় বেশ কিছু সমস্যা মোকাবিলা করলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেয়নি। ফলে ২০২১ সালে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে।