সুশিক্ষা

বন্ধুদের মিলনমেলায় একদিন

বন্ধু মানে সুখ-দুঃখের এক মজবুত ভরসা, চরম বন্ধুর পথে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। মানুষের জীবনের প্রায় ধাপে ধাপে শত বন্ধুর দেখা মেলে। কেউ স্কুলজীবনের বন্ধু, কেউবা কলেজজীবনের, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের, কেউবা আবার কর্মজীবনের বন্ধু। এর বাইরেও অনেক বন্ধু রয়েছে। তবে জীবনচলার পথে যে বন্ধুদের দিয়ে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা মনের মাঝে আত্মস্থ হয়, তারা স্কুলজীবনের বন্ধু। তাদের কখনও ভোলা যায় না। হয়তো ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়ে ওঠে না, কিন্তু তারাই গেঁথে থাকে অন্তরে। বাস্তবে সচরাচর দেখা না মিললেও স্মৃতির পাতায় আজীবন রয়ে যায় অমলিন। আবেগমাখা কণ্ঠে এ কথাগুলো বলছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সামিউল বাশার। বর্তমানে পড়ালেখা যশোরে হলেও পরিচয় দিতে ভালোবাসেন নিজের এসএসসি ব্যাচ-২০১৪ তথা স্বাপ্নিক ’১৪-এর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘এসএসসি ব্যাচ-২০১৪ (স্বাপ্নিক’১৪)’-এর ‘পুনর্মিলনী ও শিক্ষক

সংবর্ধনা-২০১৯’। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যাপিত হয় অনুষ্ঠানটি।

আয়োজক ব্যাচের দীর্ঘ এক বছরের চিন্তা ও পরিশ্রমের ফসল আয়োজনটি। স্কুলজীবনের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের একসঙ্গে একটি দিনের জন্য ফিরে পাওয়ার এ আয়োজনে ব্যাচের সব সদস্যের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের আগের যাবতীয় কাজ সম্পাদনে নানা হইহল্লার মাঝে ছিল এক অকল্পনীয় আনন্দ। সবার পরিশ্রম ও প্রতীক্ষার প্রহর শেষে যখন স্বপ্নের এ দিনটি আসে, সবার মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। দিনটি ছিল অন্য সব দিনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষক ও অতিথি আসার পরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে দুটি ভাগে পুরো আয়োজনকে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল ব্যাচের কেক কাটা, শিক্ষক সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ। দুপুরের পর দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রথম পর্বে অতিথি ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য মনোযোগসহ শোনেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। একসময় ক্লাসে শিক্ষকদের লেকচার শুনতে বিরক্ত হয়ে ওঠা শিক্ষার্থীর কাছে সেদিন তাদের বক্তব্য বড়ই মধুর মনে হচ্ছিল। তারা যেন খুব করে চাইছিলেন, একসময়কার বিরক্তিময় এসব মুখ থেকে আরও কিছু মধুর বাণী শুনতে। কেননা একসময়কার পরিচিত এ মুখগুলোর দেখা যে আর সচরাচর মিলবে না। তাই তো বিদায়বেলায় শিক্ষাগুরুর বক্তব্য শুনে নিজেদের অজান্তে চোখের জল গড়িয়ে পড়ছিল। শিক্ষার্থীরা মনের গভীর থেকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে শিক্ষাগুরুর কাছে তাদের সব ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমার চাউনিতে তাকিয়ে ছিলেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া সম্মান ও মূল্যায়নে আবেগাপ্লুত শিক্ষকরা যেন চোখ থেকে দু-এক ফোঁটা জল বিসর্জন দিচ্ছিলেন।

স্বাপ্নিক ’১৪-এর পক্ষে স্মৃতিচারন করেন যশোর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত খুশি খাতুন। তিনি বলেন, স্কুলজীবনই ছিল আমাদের স্বর্ণালি সময়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নাচ, গান, কৌতুক, নাটক প্রভৃতির কমতি ছিল না। মাহফুজ, হাবিব ও লিমনের একক ও দ্বৈত গান, অনিন্দিতার রবীন্দ্রসংগীত ও নাচ এবং তরিকুলের কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি মৃত্যুঞ্জয়, সৌরভ, অভিজিৎ ও মিঠুনের নাচ উপভোগ করেন সবাই।

  অনিক আহমেদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের উদ্যোগে ‘প্ল্যানিং ফেস্ট ২০১৯’ উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিভাগের সামনে থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

সর্বশেষ..