দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্ধের সময়ও ২৪ ঘণ্টা সেবার জন্য বন্দর প্রস্তুত

নভেল করোনার প্রভাব

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: নভেল করোনাভাইরাসের কারণে রোগের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি ঘোষণা অনুসারে আজ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতাল, কাঁচাবাজার ও ওষুধ ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চালু থাকবে ২৪ ঘণ্টা। কারণ, এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ বাণিজ্যিক কার্যক্রম হয়ে থাকে। আর এতে দেশের আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের শিল্পের কাঁচামাল খালাস নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে না। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজার ও শিল্প-কারখানার গতি থাকবে স্বাভাবিক। সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সংকট হবে না।

বন্দর কর্মকর্তারা বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতাল, কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সব সময় তো জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, ভোগ্যপণ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আমদানি, রফতানি, ডেলিভারি ও হ্যান্ডলিং হয়। আর এসব কাজ ব্যাহত হলে চলমান করোনা পরিস্থিতি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এ সময় ২৪ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আগত জাহাজগুলোর পাইলটিং সার্ভিস চালু রাখা, পরিবহন বিভাগ দ্রুত সময়ে আগত জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করা, যান্ত্রিক বিভাগ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখবে এবং প্রয়োজনে পালা করে কারখানা চালু কিংবা মেশিন চালক দায়িত্ব পালন করবেন, নিরাপত্তা বিভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতালসহ সহায়ক দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচলনা নিশ্চিত করবে। আর এসব কার্যক্রম দেখভালের জন্য বন্ধের দিনে বন্দর পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পরিচালক (প্রশাসন) ও সচিব বন্দর ভবনের অফিস কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী শেয়ার বিজকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে জরুরি ভোগ্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় আমদানি-রফতানি পণ্য ডেলিভারিতে ভোগান্তি সৃষ্টি হবে না। ফলে করোনা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে কেউ কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করতে পারবে না। তবে এতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের, অর্থাৎ শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস, ব্যাংকসহ অন্যান্য সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে না। অন্তত জাতির স্বার্থে আমাদের সচেতন হতে হবে। এখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু আসন্ন সংকট যদি ভয়াবহ হয়, তখন আর দাঁড়াতে পারব না। আগে নিজেদের সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি ২৪ ঘণ্টা সেবাপ্রদানকারী সংস্থা। আর বন্দর একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। ফলে মেরিটাইম বিশ্বের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হয়। এরই মধ্যে করোনার বিস্তার রোধে সরকার সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা বন্দরের অপারেশনাল কাজ বন্ধ করব না। এ সময় অপারেশনাল কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কনটেইনার ও পণ্যসামগ্রী দ্রুত ডেলিভারির জন্য কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ নেই। এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসা জাহাজের সাত হাজার ১৭২ নাবিককে জ্বর পরিমাপসহ করোনার লক্ষণ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। চীনের বন্দর ছেড়ে আসা জাহাজকে সাগরেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এছাড়া কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজে যারা জাহাজে উঠছেন, তাদের ওঠার সময় একবার পুরো শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হচ্ছে, আবার নামার সময় আরেকবার করা হচ্ছে। আর সবার জন্য সাবান, পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা তো আছেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..