Print Date & Time : 12 July 2020 Sunday 6:34 am

বন্ধ হোক অবৈধ ইন্টারনেট ব্যবসা

প্রকাশ: মে ২৩, ২০১৭ সময়- ১১:০৮ পিএম

 

 

মাঠপর্যায়ে যথেষ্ট তদারকি না থাকায় রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় অবৈধ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) ব্যবসা বেড়েই চলেছে। বৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের নামে ওয়ান ইউজার সংযোগ নিয়ে এবং একই আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে বহু গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে লাইসেন্সবিহীন কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবসায় মার খাচ্ছে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো। যাবতীয় কর পরিশোধ ও অফিস ব্যয় মিটিয়ে টেলিফোনে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হয় লাইসেন্সধারী আইএসপিকে। অন্যদিকে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর তো দিতে হয়ই না, বরং বৈধ প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাদের কর্মী সংখ্যা ও বেতন-ভাতা কমÑএমন অভিযোগ করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি। ফলে কম খরচে তারা গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছাতে পারে। গ্রাহকও সেজন্য তাদের সেবা গ্রহণে আগ্রহী। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ আইএসপিগুলো মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। তুলনামূলক কম খরচে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে প্রথম কয়েক মাস তারা ভালো সেবা দেয়। এরপরই শুরু হয় নানা অজুহাতে সেবার অবনতি। গ্রাহকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করেছে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের।

অবৈধ উপায়ে কেউ ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের ব্যবসা করছে কি নাÑসেটি দেখভালের দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি)। মাঠপর্যায়ে এসব তদারকিতে তাদের লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। আমরা মনে করি, মাঠপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। সেই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। অতীতে অবৈধ আইএসপিগুলোর বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযানের কথা শোনা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এ সেবা খাতে যদি এ ধরনের অরাজকতা চলতে থাকে, তাহলে ব্যক্তিপর্যায়ের গ্রাহক ও ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান থেকে বৈধ আইএসপিগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকবে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো খোঁজখবর নিয়ে সংযোগ গ্রহণ করলেও সচেতনতার অভাব কিংবা অর্থ বাঁচানোর চিন্তা থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে স্বল্পব্যয়ে অবৈধ আইএসপি থেকে সেবা গ্রহণের প্রবণতাই বেশি। অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ফলে সরকারও ক্রমবর্ধমান এ খাতের বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া যেখানে একই আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে অনেক লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, সেখানে কোনো সাইবার অপরাধ সংঘটিত হলে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করাও কঠিন। আমরা আশা করবো, অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে যতই প্রভাবশালী হোকÑবিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সে সঙ্গে আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনোভাবে লাইসেন্সবিহীন আইএসপির কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রি না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি পুরো প্রক্রিয়ায় বড় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।