সম্পাদকীয়

বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

বন্যপ্রাণী প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বিচারে বনভূমি উজাড় ও মানুষের হিংস্রতার কারণে দ্রুত কমে আসছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পেশা হিসেবে এখনও চলে বন্যপ্রাণী শিকার। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির শিকার হতে পারে। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বনের ওপর যাদের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করি।

শেয়ার বিজে গতকাল ‘নওগাঁয় সচেতনতার অভাবে বাড়ছে বন্যপ্রাণী হত্যা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নওগাঁর মহাদেবপুরে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা সম্প্রতি তীর-ধনুক দিয়ে গমক্ষেতে বেজি ও বনবিড়াল শিকার করেন। মূলত সচেতনতার অভাব ও বন্যপ্রাণী রক্ষাসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই তাদের মধ্যে এখনও বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটছে বলেই প্রতীয়মান। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী শিকার করা সাঁওতালদের শত বছরের ঐতিহ্যগত অনুশীলন। এদের মাংস দিয়ে উৎসব পালন করা তাদের বংশপরম্পরায় সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু এ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মতো বাস্তবতা দেশে বিরাজমান কি না, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা জরুরি।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুসারে বাঘ, হাতি, হরিণ, লাম চিতা, উল্লুক, কুমির, ঘড়িয়াল প্রভৃতি হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বনি¤œ দুবছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনি¤œ এক লাখ ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু ওইদিনের ঘটনায় জড়িতদের যেহেতু আইনটি সম্পর্কে ধারণা নেই, তাই তাদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না মর্মে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কেবল সাঁওতাল নয়, অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যেও বন্যপ্রাণী হত্যার মতো সংস্কৃতির প্রচলন আছে। পাশাপাশি এসব প্রাণীকে ক্ষতিকর বিবেচনায় কৃষকও এগুলো হত্যা করে থাকে। মূলত সচেতনতার অভাবেই তারা এসব প্রাণী হত্যা করে। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়ে সবাইকে এদের দ্বারা উপকারিতার বিষয়ে অবগত করা উচিত বলে মনে করি। পাশাপাশি এটি যে দণ্ডনীয় অপরাধÑসে বিষয়েও প্রচার চালানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। যেমন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এক ধরনের কর্মসূচি এবং সমতলের কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য এক ধরনের কর্মসূচি। এ বিষয়ে বছরব্যাপী তাদের কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..