প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৬ লাখ মানুষ: ত্রাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ১৩ জেলায় আগাম বন্যায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তবে বন্যার্তদের ত্রাণসামগ্রীর ‘অভাব নেই’ জানিয়ে ‘বন্যা নিয়ে রাজনীতি’ না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এখন সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। উত্তরের পানি মধ্যাঞ্চলে নেমে এলে আরও নতুন কয়েকটি জেলা প্লাবিত হতে পারে।

উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলতি মাসের শুরু থেকে বন্যা চলছে। সব মিলিয়ে মোট ৪৫ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছেন। পানি উঠায় বন্ধ রাখা হয়েছে এসব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়। অনেক স্থানে চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। এ পরিস্থিতিতে আরও কয়েক দিন ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের ৯টি নদীর পানি ১৭টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছিল। এসব নদীর মোট ৫৫টি পয়েন্টে পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

মন্ত্রী বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবার বন্যা হয়েছে। এতে ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে। তার আলোকে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি।

এ পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১৩ জেলায় গত ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চার হাজার টন চাল, এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৯ ধরনের শুকনো খাবারের সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, দুর্গত ১৩ জেলার ৪৫ উপজেলায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সেসব এলাকার জেলা প্রশাসকদের বলেছি, তাদের চাহিদামতো খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, সব স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান।

আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে উত্তরাঞ্চলের বন্যা প্লাবিত প্রত্যেকটি এলাকা সফর করবেন জানিয়ে মায়া বলেন, সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব নিজ নিজ এলাকা সফর করে বন্যা প্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে, আমাদের ত্রাণসামগ্রীর কোনো অভাব নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।