প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা ঢলে জুলাই মাসে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়। পরে তা উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়। ৩২টি জেলায় ছড়িয়ে পড়া বন্যার পানি নামে চলতি মাসের শুরুর দিকে। তবে বন্যার ক্ষত এখনও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জেলায়। সম্প্রতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। এ নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব ছাপা হচ্ছে আজ

হামিদুর রহমান: চলতি বছর বন্যায় দেশের ৩২ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া বন্যায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ৬৪৩ পশুপাখির। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬২ হাজার টিউবওয়েল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যমতে, বন্যায় দেশের ৩২ জেলায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে ১৮ জেলায় আংশিকভাবে ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ১০ হেক্টরের ফসল এবং সম্পূর্ণভাবে ১৬ জেলায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া রাঙামাটিতে ৯৮৭ হেক্টরের ফসল আংশিকভাকে ক্ষতি হয়েছে। এ তালিকায় আরও রয়েছে কক্সবাজারে দুই হাজার ৪০০ হেক্টর, নীলফামারীতে ৬৮ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ১২৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১৪ হাজার ২১ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ১৮৭ হেক্টর, হবিগঞ্জে ২ হেক্টর, ময়মনসিংহে ৬৫৬ হেক্টর, শেরপুরে তিন হাজার ৬৩৭ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ৫৮৮ হেক্টর, জামালপুরে ২৫ হাজার ৮৪৫ হেক্টর, চাঁদপুরে পাঁচ হেক্টর, ফরিদপুরে তিন হাজার ৮৪১ হেক্টর, টাঙ্গাইলে ১৬ হাজার ৬৭২ হেক্টর, নওগাঁয় তিন হাজার ৪১ হেক্টর, শরীয়তপুরে ৪৮০ হেক্টর ও সিরাজগঞ্জে ১৪ হাজার ৭০১ হেক্টরের ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৬২ হেক্টরের ফসল। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১০৩ হেক্টর, রাঙামাটিতে ৩৩৯ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৩২৫ হেক্টর, নীলফামারীতে ৪৪৫ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ৯৯৩ হেক্টর, নেত্রকোনায় ৩৩০ হেক্টর, সিলেটে দুই হাজার ৫০৩ হেক্টর, বগুড়ায় ২৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর, হবিগঞ্জে ১২৭ হেক্টর, ময়মনসিংহে ৯৮১ হেক্টর, শেরপুরে এক হাজার ৯০ হেক্টর, মানিকগঞ্জে এক হাজার ৫৭২ হেক্টর, চাঁদপুরে পাঁচ হেক্টর, ফরিদপুরে ১০ হেক্টর, মাদারীপুরে ৪৯০ হেক্টর ও সিরাজগঞ্জে তিন হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যমতে আরও জানা যায়, বন্যায় দেশের ১৮ জেলায় প্রায় ৬২ হাজার ৫৬১টি টিউবওয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটিতে প্রায় ১৮৯, সুনামগঞ্জে চার হাজার ৪২৭, নেত্রকোনায় ৫৫০, সিলেটে এক হাজার ৫৬২, বগুড়ায় চার হাজার ৪৪৪, গাইবান্ধায় ১১০৫, মৌলভীবাজারে ৭৮৮, ময়মনসিংহে ৮০২, শেরপুরে ৮৩৫, ফেনীতে ১১৮, কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৭৩৪, মানিকগঞ্জে ১২২, জামালপুরে ১৬ হাজার ২৫২, চাঁদপুরে ২০, ফরিদপুর ১৮৬, টাঙ্গাইলে চার হাজার ২৩০, মাদারীপুরে এক হাজার ৫৫৬ ও সিরাজগঞ্জে পাঁচ হাজার ৭৪১টি। যদিও এর বিকল্প হিসেবে পাঁচ জেলা ব্যতীত অন্য জেলাগুলোয় বিশুদ্ধ পানি প্রদানে কোনো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করা হয়নি।
বন্যায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ২২ জেলায় এক হাজার ১৫ মেডিক্যাল টিম প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাটে ১২, নীলফামারীতে ২৩, সুনামগঞ্জে ১২২, নেত্রকোনায় ৩২, সিলেটে ১৪০, বগুড়ায় ৩২, গাইবান্ধায় ১০৯, মৌলভীবাজারে ৫৩, হবিগঞ্জে এক, ময়মনসিংহে সাত, শেরপুরে ৫৭, ফেনীতে ২০, কুড়িগ্রামে ৮৫, মানিকগঞ্জে ২১, জামালপুরে ৮০, চাঁদপুরে ১৬, ফরিদপুরে ৩৩, টাঙ্গাইলে ৬৯, নওগাঁয় ১৮, শরীয়তপুরে ১৮, মাদারীপুরে ১০ এবং সিরাজগঞ্জে ৫৭টি।
এদিকে বন্যায় বিভিন্ন জেলায় ৬২টি গরু ও ২৪ হাজার ৫৮১ হাঁস-মুরগি মারা যায়।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..