সম্পাদকীয়

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব বিদ্যালয় সংস্কারে উদ্যোগ নিন

 

নদী আমাদের কৃষি, যোগাযোগ, সভ্যতা, ঐতিহ্য সংস্কৃতি, অর্থনীতির অপরিহার্য অনুষঙ্গ, এটি নতুন করে বলার অবকাশ নেই। নিজের জীবন ধারণের প্রধান উপাদান দিয়েও মানুষের উপকার করে নদী। ‘পরোপকার’ কবিতায় রজনীকান্ত সেন প্রথমেই লিখেছেন নদীর কথা ‘নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল’। শিশুদের পরোপকারে অনুপ্রাণিত করতে কবিতাটি একসময় পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছিল। কালের বিবর্তনে নদীর ভূমিকা বদলেছে, নদী এখন সব কেড়ে নেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে প্রতিদিনই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদ-নদীতে পানি বাড়ছে, দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
বন্যা ও ভাঙনে উত্তরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবার। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বন্যায় গাইবান্ধায় বিলীন ১১ বিদ্যালয়’ শীর্ষক প্রতিবেদন বন্যার ক্ষতির মাত্রাকেই যেন তুলে ধরেছে। এখানে বন্যায় গাইবান্ধায় নদীভাঙনে ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ২৭৪টি বিদ্যালয়।
আমরা আশা করি, বন্যার্তদের মধ্যে সময়মতো ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বন্যার পানি চলে যাওয়ার পর ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগ দেখা দেয়। এজন্য খাওয়ার স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলোর ভবন আসবাবপত্র ও ভবনের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।’ এতগুলো বিদ্যালয় নির্মাণ করা সময়সাপেক্ষ। তবুও এসব প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যেন বড় ধরনের ছেদ না পড়ে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতি বছরই আমাদের দেশে নদী ভাঙন ও বন্যায় বিপুল ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয় রাষ্ট্র। বন্যার সময় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই প্রথম ও প্রধান কাজ। বন্যা মোকাবিলায় আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। প্রতি বছরই আমাদের অভিজ্ঞতা অর্জন করি। কিন্তু বন্য-পরবর্তী সময়ে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
আঞ্চলিক ও স্থানীয় অতিবৃষ্টি ও ভৌত অনেক কারণে বন্যা হওয়ার জন্য দায়ী। তবে মনুষ্যসৃষ্ট কারণই নদী ভাঙনের বড় কারণ। অপরিকল্পিতভাবে নদীতীরে স্থাপনা নির্মাণ, দখল-দূষণ করে নদীকে যারা আক্রান্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মুষ্টিমেয় লোকের লোভের মাশুল কেন দেবে রাষ্ট্র, কেন তাদের অবৈধ স্বার্থের শিকার হবে সাধারণ মানুষ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..