প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩২ জেলার সাড়ে ১৫ লাখ পরিবার

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা ঢলে জুলাই মাসে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়। পরে তা উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়। ৩২ জেলায় ছড়িয়ে পড়া বন্যার পানি নামে চলতি মাসের শুরুর দিকে। তবে বন্যার ক্ষত এখনও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জেলায়। সম্প্রতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। এ নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্ব ছাপা হচ্ছে আজ

হামিদুর রহমান: এ বছর বন্যায় দেশের ৩২ জেলার ১৯৪টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ পরিবারের প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামালপুরের মানুষ। আর বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৪২ জন। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে জামালপুর ও নেত্রকোনায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার লাখ ৬৯ হাজার ৩৫০টি পরিবার ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৮টি পরিবার। আর এসব পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৩ জন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ লাখ ৪০ হাজার জন।
এ বছর বন্যায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ছয় লাখ চার হাজার ৯টি। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫ হাজার ৩৪৯টি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬০টি।
এদিকে এ বছর বন্যায় ১৭টি জেলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৪২ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচজন, লালমনিরহাটে একজন, সুনামগঞ্জে পাঁচজন, নেত্রকোনায় ১৫ জন, সিলেটে একজন, বগুড়ায় সাতজন, গাইবান্ধায় নয়জন, ময়মনসিংহে আটজন, শেরপুরে ১৩ জন, কুড়িগ্রামে ২১ জন, কিশোরগঞ্জে তিনজন, জামালপুরে ৪১ জন, ফরিদপুরে তিনজন, টাঙ্গাইলে তিনজন, শরিয়তপুরে একজন, মাদারিপুরে একজন ও সিরাজগঞ্জে পাঁচজন।
তথ্যমতে, এ বছর বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামালপুরের মানুষ। জেলাটিতে রয়েছে প্রায় চার লাখ ৮০ হাজার ৩৩৪টি পরিবার। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ২৫০টি পরিবার ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৮৪টি পরিবার। আর এসব পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট লাখ ৭৭ হাজার ৮৭০ জন ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার লাখ পাঁচ হাজার ৯২০ জন। এছাড়া জামালপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার ৮৩০টি। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ৪৫ হাজার ৫৮০টি ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত হাজার ২৫০টি।
এদিকে বগুড়ায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ৩৪৪টি পরিবারের তিন লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৭ জন। এছাড়া জেলাটিতে ছয় হাজার ৩৭৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৭০৭টি ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৭০টি ঘরবাড়ি।
এছাড়া গাইবান্ধায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৮৫২টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৯১৩টি পরিবার। জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯৭টি। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার লাখ ৬২ হাজার ৯০৭ জন এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৯০ জন। এছাড়া আংশিকভাবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৫৮টি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয় হাজার ৩১২টি।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৯ হাজার ১৩১টি পরিবারের তিন লাখ ৯০০ জন। তবে ঘরবাড়ির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এছাড়া চট্টগ্রামে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৭২৫ জন। আর ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১৯ হাজার ৬৩৫টি ও সম্পূর্ণভাবে ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে ৯০৭টি।
এছাড়া বান্দরবনে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট হাজার ৩৭৪টি পরিবার ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৬৮টি পরিবার। আর আংশিকভাবে ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে সাত হাজার ৩০৫টি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫৯টি ঘরবাড়ি।
খাগড়াছড়িতে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩৮০ জন। তবে আংশিকভাবে ঘরবাড়ির ক্ষতি না হলেও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ১০০টি ঘরবাড়ি।
অন্যদিকে আংশিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুড়িগ্রামের মানুষ। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও আংশিকভাবে জেলাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৩৮ হাজার পরিবারের প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন। আর আংশিকভাবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৮৫৩টি ঘরবাড়ি।
এছাড়া টাঙ্গাইলে প্রায় এক লাখ ২৯ হাজার ৮৭৭টি পরিবারের প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ৭৯৮ জন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতি হয়েছে ২৭ হাজার ১৫টি ঘরবাড়ি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৩৮০টি ঘরবাড়ি।
সিরাজগঞ্জে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮২ হাজার ৪৭১টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৭৯টি পরিবার। আংশিকভাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৯৭ জন এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৪৩৪ জন। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ১৩টি ঘরবাড়ি এবং সর্ম্পূণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয় হাজার ৫০৫টি ঘরবাড়ি।
লালমনিরহাটে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ হাজার ৮৯৬টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩৪টি পরিবার। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৩৬ জন ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৪৩ জন।
নীলফামারীতে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট হাজার ৭০৩টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৮টি পরিবার। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ হাজার ৬৫ জন এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫৩ জন। আর সুনামগঞ্জে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৮৭টি পরিবার। আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫।
নেত্রকোনায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫২৭টি পরিবারের ৯৩ হাজার ১০৫ জন। আর আংশিকভাবে এক হাজার ৪৩০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ময়মনসিংহে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৭ হাজার ৩০১টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন হাজার ৫৮৪টি পরিবার। এর মধ্যে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৯৬ জন এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আট হাজার ৪০ জন। আর আংশিকভাবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ হাজার ৪১৭টি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ১১৭টি ঘরবাড়ি।
এদিকে শেরপুরে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫১০টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০০টি পরিবার। এতে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার জন এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার জন। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬০৫টি ঘরবাড়ি ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯০টি ঘরবাড়ি।
সিলেটে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৬৫১টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয় হাজার ৫২০টি পরিবার। এর মধ্যে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন লাখ ৬৩ হাজার ৭৯০ জন ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৩০৩ জন। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৯৯২টি ঘরবাড়ি ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার ৯৪৯টি ঘরবাড়ি।
মৌলভীবাজারে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ হাজার ৭৮০টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি পরিবার। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৮ হাজার ৯১৮ জন। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন হাজার ২৬২টি ঘরবাড়ি এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি ঘরবাড়ি।
হবিগঞ্জে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৩৭৩টি পরিবার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ২৫টি পরিবার। আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৬২৩টি ঘরবাড়ি।

সর্বশেষ..