প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সাড়ে ৯ হাজার কিলোমিটার সড়ক

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নামা ঢলে জুলাই মাসে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়। পরে তা উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়। ৩২ জেলায় ছড়িয়ে পড়া বন্যার পানি নামে চলতি মাসের শুরুর দিকে। তবে বন্যার ক্ষত এখনও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জেলায়। সম্প্রতি এ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। এ নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজনের শেষ পর্ব ছাপা হচ্ছে আজ

হামিদুর রহমান: চলতি বছর বন্যায় দেশের ২৪ জেলায় প্রায় সাত হাজার ১৭৯ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ২৬ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়া ১৮ জেলায় প্রায় ৫২৪টি ব্রিজ-কালভার্ট ও প্রায় এক হাজার ৬০৫ কিলোমিটার বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত ৩২ জেলার মধ্যে ২৬ জেলার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায়। জামালপুরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পরিমাণ ৩১৬ কিলোমিটার আর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার ২৭ কিলোমিটার। পরের অবস্থানে থাকা কুড়িগ্রামে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার পরিমাণ এক হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৩০৫ কিলোমিটার। গাইবান্ধা জেলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার পরিমাণ ৮৩৩ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২২৬ কিলোমিটার।
এছাড়া পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে এক হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার রাস্তার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজারে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২৭৫ কিলোমিটারের। লালমনিরহাটে আংশিকভাবে ক্ষতি হয়েছে ৯০৫ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২৭ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জে আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৯৬ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৮১৮ কিলোমিটার। নেত্রকোনায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার পরিমাণ ৩৩৩ কিলোমিটার, সিলেটে ৩৩৫ ও সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে চার কিলোমিটারের। বগুড়ায় আংশিক ৯৫ ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮৫ কিলোমিটার। গাইবান্ধায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৮৩৩ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২২৬ কিলোমিটারের। ময়মনসিংহে ২০৯ কিলোমিটার আংশিক ও ১৩ কিলোমিটারের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। শেরপুরে আংশিক ক্ষতি ২৬৬ কিলোমিটার; কুড়িগ্রামে এক হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৩০ কিলোমিটার। এছাড়া মানিকগঞ্জে ৫৬ কিলোমিটার আংশিক ও ৪৬ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতি হয়েছে। চাঁদপুরে ৪৫ কিলোমিটার আংশিক ও পাঁচ কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে ক্ষতি হয়েছে। ফরিদপুরে ৫৯ কিলোমিটার আংশিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতি হয়েছে ১০০ কিলোমিটার। টাঙ্গাইলে আংশিক ক্ষতি ৪৬৮ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতি ২৮ কিলোমিটারের। নওগাঁয় আংশিক ক্ষতি ১৩০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরে ১৩০, সিরাজগঞ্জে ১৮০ এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৫ কিলোমিটার রাস্তা।
এ দিকে এ বছর বন্যায় ১৬ জেলায় এক হাজার ৮৪১ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়িতে ২০, রাঙামাটিতে ১৩৩, লালমনিরহাটে ৬৯, সুনামগঞ্জে ৫৫৫, সিলেটে ৮৯, গাইবান্ধায় ১৫, ময়মনসিংহে ২৭, শেরপুরে এক, কুড়িগ্রামে ছয়, মানিকগঞ্জে ১৬, জামালপুরে ৮৮০, চাঁদপুরে চার, টাঙ্গাইলে এক, মাদারীপুরে ১১, পঞ্চগড়ে সাত ও সিরাজগঞ্জে সাতটি।
আর ১৭ জেলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৩৮ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনায় ৩৭১, বগুড়ায় ২৪৮, গাইবান্ধায় এক হাজার ৩৭, মৌলভীবাজারে ৩৩, হবিগঞ্জে ১০, ময়মনসিংহে ১৫৬, শেরপুরে ১৪৫, ফেনীতে পাঁচ, কুড়িগ্রামে এক হাজার ২৬, মানিকগঞ্জে ৪৬, জামালপুরে এক হাজার ৬৯৮, চাঁদপুরে দুই, ফরিদপুরে ৩২, টাঙ্গাইলে ২৫৭, নওগাঁয় আট, শরীয়তপুরে আট, সিরাজগঞ্জে ২৫৬টি।
এদিকে ১৮ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫২৪টি ব্রিজ ও কালভার্ট। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটিতে ২২, নীলফামারীতে পাঁচ, সুনামগঞ্জে ৯৬, সিলেটে পাঁচ, বগুড়ায় ১১, মৌলভীবাজারে ৩৯, হবিগঞ্জে এক, ময়মনসিংহে ৮৪, শেরপুরে পাঁচ, কুড়িগ্রামে ৪১, মানিকগঞ্জে ১৪, জামালপুরে ১৩৫, চাঁদপুরে ২০, টাঙ্গাইলে ১৩, নওগাঁয় এক, শরীয়তপুরে এক, মাদারীপুরে দুই এবং সিরাজগঞ্জে ২৯টি।
অপরদিকে হবিগঞ্জে এক হাজার কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০০ কিলোমিটার, মৌলভীবাজারে ২৩০, গাইবান্ধায় ৯৮, সিলেটে ২২, মাদারীপুরে ২০, টাঙ্গাইলে ১৪ ও সিলেটে ২২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর কুড়িগ্রামে ৪০ কিলোমিটার ও মাদারীপুরে ১০ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সর্বশেষ..