সম্পাদকীয়

বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করুন

করোনা মহামারির কারণে এমনিতেই অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌসুমি দুর্যোগ বন্যা। সাধারণত প্রতিবছরই অল্প-বিস্তর বন্যা হলেও এবার এর তীব্রতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন শ্রাবণ মাস শেষের দিকে। ভাদ্র মাসে এ বন্যা আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা মোকাবিলায় জোরদার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশনা মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে বলেই প্রত্যাশা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ভাদ্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কায় প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয় দৈনিক শেয়ার বিজে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেখানে বৃষ্টিপাত বেশি হলে স্বাভাবিকভাবে ভাটির দেশ হিসেবে সে পানি গড়াবে বাংলাদেশে, যা বন্যার সৃষ্টি করবে। আর ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি কোনো কোনো বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হওয়া উচিত বলে মনে করি।

বন্যার সংকট মোকাবিলায় প্রধানত নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কাজেই এ মন্ত্রণালয়ের উচিত এখন থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক জেলা আংশিক বা অনেকাংশে প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে উঠে আসছে বন্যাদুর্গত এলাকার চিত্র। বিশেষ করে জামালপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বেশ কিছু জেলায় বন্যা হানা দিয়েছে ব্যাপক আকারে। এসব প্লাবিত এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন। সাধারণত ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কার্যালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হয়। তাই প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোর ডিসি কার্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

বন্যার শেষ দিকে যখন পানি নামতে শুরু করে, তখন অনেক এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়, যা অনেক মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করে দেয়। তাই নদীভাঙনের ঝুঁকে থাকা মানুষদের সহায়তায়ও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করি। এ ক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা প্রয়োজন।

করোনা মাহামারির এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বন্যাদুর্গত এলাকায় তা মান্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বিভিন্ন বাঁধ, উঁচু সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব স্থানে গবাদি পশু নিয়ে গাদাগাদি করে মানবেতরভাবে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে অনেককে। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি খাতে বিত্তবানদের এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..