দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বরখাস্ত হলেন এরফান সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলাটির তদন্ত ‘প্রভাবমুক্ত’ভাবে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। ফৌজদারি মামলায় সাজা হওয়ায় কাউন্সিলর এরফান সেলিমকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গতকাল এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আলোচিত এ ঘটনা নিয়ে গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এ মামলা প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করা হবে। এখানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও কেউ করবে না। একজন অপরাধীকে যেভাবে বিচারের আওতায় আনা দরকার, একইভাবে তাকেও আনা হবে।’

ঢাকা-৭ আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তারা শ্বশুর একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। বিদেশি মদ ও মাদক রাখার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া তিনি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হয়েছেন। এজন্য তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

এদিকে ফৌজদারি মামলায় সাজা হওয়ায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিমকে বরখাস্তের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ইরফান সেলিমের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যে কাউন্সিলরের কথা জানতে চাচ্ছেন, ‘সেই অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা প্রসেস করছি। সম্ভবত আইন অনুযায়ী তাকে আজকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করব। তাকে বরখাস্ত করার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রক্রিয়া-সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।’

অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ আসে, তারা এক ধরনের মাস্তানিই করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কি না এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো শ্রেণি-পেশা বা পদ-পদবিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করব না। আমার মনে হয় বাংলাদেশে সব পেশা সব পদের লোকজনের মধ্যে ভালো-মন্দের দুই কাজের মিশ্রণ প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্য করি। সব কাউন্সিলর খারাপ কাজ করেন, এটা আমি মনে করি না। কিছু কিছু কাউন্সিলর দৃষ্টিকটু, অনিয়ম এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজের সঙ্গে কেউ কেউ কখনও কখনও সম্পৃক্ত হয়নি এটা বলা যাবে না। যেটা হয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে সাত দিনের রিমান্ডের নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানার পুলিশ পরিদর্শক আশফাক রাজীব হাসান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছেন। ইরাফানের পাশাপাশি তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদেরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

গত সোমবার মামলা দায়ের হওয়ার পর দুপুরে র‌্যাব পুরান ঢাকায় চকবাজারের ২৬ দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায়। র‌্যাব হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেয়। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, গুলিসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..