প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বরাদ্দ কমছে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ কমছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে মোট বাজেটের চার দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ও কৃষি খাতে পাঁচ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ছিল পাঁচ শতাংশ ও কৃষি খাতে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশ। সে হিসাবে আনুপাতিক হারে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমছে।
নতুন প্রস্তাবিত বাজেটের তথ্যমতে, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সরকার যে সব উল্লেখযোগ্য প্রকল্প নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সব জেলা সদর হাসপাতালে নেফ্রোলজি ইউনিট ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন এবং বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের জন্য গৃহীত প্রকল্প ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত হোস্টেল নির্মাণ, মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন এবং প্রতিটি বিভাগীয় হাসপাতালের শিশু কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপনের জন্যও প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবিত বাজেট আরও বলা হয়েছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে ১৩ হাজার ৭৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন সেবাপ্রার্থী একেকটি ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকেন যার ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। সারা দেশে প্রায় চার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলায় ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি’ পাইলট আকারে চলমান রয়েছে। ওষুধ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি প্রচেষ্টায় অংশ হিসেবে ওষুধের কাঁচামাল ও ল্যাবরেটরি বিকারক উৎপাদনকারীদের রফতানি উৎসাহিতকরণে ২০ শতাংশ প্রণোদন প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে পাঁচ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। যেটি গত অর্থবছরে ছিল পাঁচ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। বর্তমানে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত। যদিও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। বিগত ১০ বছরে কৃষি খাতে তিন দশমিক সাত শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে আর সবজি উৎপাদনে আমরা এখন বিশ্বে তৃতীয়। অন্যদিকে আম উৎপাদনে আমরা সপ্তম এবং আলু উৎপাদনে আমরা অষ্টম স্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ চালু করার পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছয়টি প্রবিধানমালা এবং দুটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..