শোবিজ

বরেণ্য পরিচালক আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর এক বছর

শোবিজ ডেস্ক: লেখক, অভিনেতা এবং বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন। গতকাল ছিল তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছর এদিনে তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইশকেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সরকারি অনুদানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ নভেম্বর ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ উপলক্ষে চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিল্পী সমিতি দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, তিনি একজন গুণী নির্মাতা ছিলেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যও ছিলেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার চলে যাওয়ার দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করছি। পাশাপাশি শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছি। অন্যদিকে পরিচালক সমিতি আমজাদ হোসেনকে নিয়ে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। বেলা ১১টায় বিএফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। তার উল্লেখ্যযোগ্য সিনেমা নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, ভাত দে, আগুন নিয়ে খেলা, জুলেখা, দুই ভাই, বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্র, সুন্দরী, কসাই, দুই পয়সার আলতা, জন্ম থেকে জ্বলছি, সখিনার যুদ্ধ এবং সুন্দরী বধূসহ আরও অনেক জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাণ করেছেন। তিনি ১৯৪২ সালে ১৪ আগস্ট জামালপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। লেখালেখির মাধ্যমেই তার সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে সাহিত্যের অঙ্গনে তার প্রবেশ। তার প্রথম কবিতা ছাপা হয় দেশ পত্রিকায়। ছোটদের জন্যও লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন। ১৯৬১ সালে হারানো দিন চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন। পরবর্তীতে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, ভাত দে সিনেমা নির্মাণ করে বেশ প্রশংসা অর্জন করেন। ১৯৭৬ সালে নয়নমণি সিনেমার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তারপর গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, ভাত দে, জয়যাত্রাসহ ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ছয়টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিভাগে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া একুশে পদক, অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য, বাংলা একাডেমি সাহিত্য, ইউরো শিশু সাহিত্য এবং ফজলুল হক স্মারক পুরস্কার পান। জামালপুরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..