সম্পাদকীয়

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যশোরের উদ্যোগ অনুকরণীয়

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বর্জ্য মারাত্মক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যার কারণে প্রতিদিনই শত শত টন বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সময়োপযোগী না হওয়ায় নানা রোগবালাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঝুঁকিও বাড়ছে। হতাশাজনকভাবে এ ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তির তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে যশোর পৌরসভা। বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার, বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি প্রশংসীয় বটে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ নিলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে প্রকৃত সুফল মিলবে বলে আমরা মনে করি।
গত রোববার দৈনিক শেয়ার বিজে ‘যশোর পৌরসভা: বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে সার, বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে জৈবসার, বিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস তৈরি করবে যশোর পৌরসভা। ফলে বর্জ্য রূপ নেবে মূল্যবান পণ্যে। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম ময়লামুক্ত পৌরসভা হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে যশোর। ইতোমধ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টও স্থাপন করা হয়েছে। যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হতে পারে।
দেশের সব বড় শহরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চালেঞ্জ। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোয় রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রে বিকল্প ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। অনেকগুলো বিকল্পের মধ্যে যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এটা ইতিবাচক নিঃসন্দেহে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে যশোর পৌরসভা এ উদ্যোগ সফল করার মাধ্যমে অন্য শহর কর্তৃপক্ষকে পথ দেখাবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া অন্য স্থানীয় সরকার ও শহর কর্তৃপক্ষও এ ধরনের উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে ই-বর্জ্যও বিশ্বজুড়ে এখন অন্যতম উদ্বেগের কারণ। ই-বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনায় নানা উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এক্ষেত্রে এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি, যা উদ্বেগজনক। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনে এ ধরনের বর্জ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে এখনই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে। এক্ষেত্রে এখনই সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সবাই এখনই উদ্যোগী হবেন বলে আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..