খবর দিনের খবর

বর্ষার আগেই খাল উদ্ধারের ঘোষণা তাপসের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে বর্ষা মৌসুমের আগেই অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে খালগুলো পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল শ্যামপুরের বড়ইতলী এলাকায় শ্যামপুর খালের চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মেয়র বলেন, আমরা ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হাতে নিচ্ছি। স্বল্প মেয়াদের কার্যক্রমগুলো আমরা নিজ অর্থায়নেই আরম্ভ করে দিয়েছি। মূলত প্রথম কাজটি হলোÑদখলগুলো দখলমুক্ত করা। বর্ষা মৌসুমের আগেই দক্ষিণ সিটির খাল দখলমুক্ত করা হবে।

তাপস আরও বলেন, ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে (সিএস খতিয়ান) দেখে আমরা সীমানা নির্ধারণ করব, আমরা খালগুলো দখলমুক্ত করব এবং খালের মধ্যে যেসব বর্জ্য রয়েছে তা আমরা অপসারণ করব। এর মাধ্যমে আমরা জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করব এবং জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার হলে ঢাকার যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়ে থাকে সেসব জায়গায় আর জলাবদ্ধতা হবে না বলে আমরা আশাবাদী। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকাবাসীকে আমরা জলাবদ্ধতা থেকে অনেকাংশেই মুক্ত করতে পারব।

এ সময় বক্স কালভার্ট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলেন, বক্স কালভার্টগুলো বিশেষ করে পান্থপথ ও ধোলাইখালের বক্স কালভার্টগুলো দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। আমরা অচিরেই সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আরম্ভ করব এবং পরবর্তীতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কী করা যায়, বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই কার্যক্রম হাতে নেব।

খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় ওয়াসার জনবল সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর প্রসঙ্গে তাপস বলেন, এ বিষয়ে আমরা সভাতে আলাপ-আলোচনা করেছি। যতটুকু জনবল এবং যন্ত্রপাতি আমাদের যা প্রয়োজন হবে, সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করেই আমরা নেব। গৎবাঁধা সব জনবল আমরা নেব না, আমাদের যেটা প্রয়োজন নাই সেটা আমরা নেব না। এ ব্যাপারে গঠিত কমিটি সব বিষয় পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করবে। সেই রূপরেখার আলোকে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

এর আগে সকালে জিরানি খালের ত্রিমোহনী এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র ফজলে নূর তাপস। এ সময় সিএস খতিয়ান অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করে খাল দখল করে নির্মাণ করা বাড়িঘরগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, পানি আসার সুযোগ নাই! পানি আসবে কীভাবে?

সিএস খতিয়ান অনুযায়ী খালের মধ্যে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলে খালের মধ্যকার বর্জ্য-আবর্জনা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন তিনি। পরে মেয়র শ্যামপুর খালের আরেক প্রান্ত, মতিঝিলের সিটি টাওয়ার, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সম্মুখস্থল ও ওসমান গনি রোড পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..