দিনের খবর প্রথম পাতা

বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্সের সাড়ে আট কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

বিল্ডট্রেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিল্ডট্রেড গ্রুপের পাইপ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন ও মামলা করেছে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা)। গতকাল ভ্যাট আইনে এ মামলা করা হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, বসুন্ধরা স্টিল কমপ্লেক্সের প্রধান কার্যালয় ৩৭ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি, তেজগাঁও শি/এ, ঢাকা। এর নিবন্ধন নম্বর: ০০০০০৩৬৭৫। কারখানা মানিকগঞ্জের জাগীর, গোলড়ায়। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন থাকলেও ২০১৫ সালের আগস্টে বিল্ডট্রেড গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা স্বত্ব কিনে নেয়।

ড. মইনুল খান জানান, ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক মো. মাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা সিএ ফার্মের দেয়া বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন, মাসিক দাখিলপত্র ও নানা সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমা ট্রেজারি চালানের কপি ও অন্যান্য দলিল থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের আড়াআড়ি যাচাই এবং পর্যালোচনা করে মামলার প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তকালীন প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে নানা তথ্য ও বক্তব্যও আমলে নেয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসআরও সুবিধায় আমদানি করে পণ্যের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন না করে বেশিরভাগ পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বাণিজ্যিক ব্যবসায়ী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। আমদানি করা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল নয়। এ ক্ষেত্রেও এসআরও সুবিধার অপব্যবহারের ফলে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট বাবদ এক কোটি ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৫ টাকা, কাস্টমস ডিউটি বাবদ ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ টাকা ও আরডি (রেগুলেটরি ডিউটি) বাবদ তিন লাখ ৬৭ হাজার ৫৬১ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় বার্ষিক অডিট রিপোর্ট তৈরি করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছর ব্যতীত তদন্ত মেয়াদের পরবর্তী সময়ের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দেখাতে পারেনি এবং তারা আয়কর অফিসেও বার্ষিক অডিট রিপোর্ট দাখিল করেনি। তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিএ ফার্ম কর্তৃক প্রণীত অডিট রিপোর্ট অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি উৎসে কোনো ভ্যাট কর্তন করেনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির এ খাতে প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ পাওয়া যায় ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উৎস খাতে কোনো ভ্যাট পরিশোধ না করায় ভ্যাট ফাঁকি বাবদ ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ টাকা উদ্ঘাটন করা হয়।

উৎসে খাতে এ ফাঁকির ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাসভিত্তিক দুই শতাংশ হারে ৪৬ লাখ ২২ হাজার ৮৬৭ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য। এছাড়া তদন্ত মেয়াদে প্রদেয় ও চলতি হিসাবের পার্থক্য, বিভিন্ন উপকরণে অতিরিক্ত ব্যবহারের ওপর রেয়াত কর্তন, সাড়ে সাত শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরও মূল্য ঘোষণা না দিয়ে রেয়াত গ্রহণ, নির্ধারিত সময়ের পর অবৈধ রেয়াত গ্রহণ, মূল্যভিত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই এমন পণ্যের ওপর রেয়াত গ্রহণ-সংক্রান্ত অনিয়ম পাওয়া গেছে। আমদানি পণ্য রেজিস্টারে এন্ট্রি না করে খোলা বাজারে বিক্রি করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব খাতে তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভ্যাট পরিশোধ করেনি। এক্ষেত্রে এসব খাতে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ দুই কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এ ফাঁকির ওপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট আইন অনুসারে মাসভিত্তিক দুই শতাংশ হারে ৬৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২২ টাকা সুদ টাকা প্রযোজ্য।

তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট পরিহার করা ভ্যাট (এটিভিসহ) পাঁচ কোটি ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৭, সুদ বাবদ দুই কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৮৯৭, কাস্টমস ডিউটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪, আরডি তিন লাখ ৬৭ হাজার ৫৬১ টাকাসহ সর্বমোট আট কোটি ৪৮ লাখ পাঁচ হাজার ৬৮৯ টাকা পরিহারের তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। তদন্তে উদ্ঘাটিত পরিহার করা রাজস্ব আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাটির ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থাকায় এর সার্বিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটকে আরও মনিটরের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..