সম্পাদকীয়

বস্তিতে বারবার আগুনের কারণ উদ্ঘাটন হোক

২০১২ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি। বস্তিতে সাধারণত বসবাস করেন নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু এসব ঘরের মালিক তারা নন। সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বস্তিতে থাকার জন্য নিন্ম আয়ের মানুষকে গুনতে হয় উচ্চ ভাড়া। তবে সে ভাড়া জমা হয় না রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। যদিও বস্তির জমির মালিক একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। আর উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করেও বস্তিতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন না বস্তিবাসী। প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের কারণে তারা সর্বস্ব হারিয়ে হয়ে পড়েন সর্বস্বান্ত। এ পরিস্থিতির নিরসন হওয়া জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ফের আগুনে পুড়ল সাততলা বস্তির বহু ঘর’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত সোমবারের আগুনে পুড়ে গেছে বস্তির শতাধিক ঘর। আগুন নির্বাপণে দমকল বাহিনীর ১৮টি ইউনিটের সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা।

এটা সত্য যে, বস্তিগুলো গড়ে ওঠে অবৈধভাবে। কিন্তু রাজধানীর বস্তিতে যারা বসবাস করেন তারা নিজেরা এসব বসতি তৈরি করেননি। বরং কোনো মহল এসব খুপরি ঘর তুলে নি¤œ আয়ের মানুষের কাছ থেকে উচ্চহারে ভাড়া আদায় করে থাকে। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে ভাড়া আদায়কারী গোষ্ঠীর কোনো ক্ষতি হয় না। যত প্রকার ক্ষতির শিকার হন এসব স্বল্প আয়ের মানুষ। এসব বস্তিতে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ রিকশাচালক। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শ্রমজীবী মানুষের আশ্রয় হয় এসব বস্তিতে। তবে সে আশ্রয় জোটে উচ্চ ভাড়ার বিনিময়ে। বিভিন্ন গবেষণায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করেও কেন নি¤œ আয়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারেন না, সে প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারোরই।

বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। সাততলা বস্তিসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নৈমিত্তিক ব্যাপার। অনেক ক্ষেত্রে এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ হতে দেখা যায় না।

বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা তাদের ভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিতেই পারে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার অধিগ্রহণ করা ভূমি দখলমুক্ত করা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন সময় অবৈধ দখলদারের কবল থেকে জমি উদ্ধার করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার নজির রয়েছে। কিন্তু ভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ ভণ্ডুল করার প্রক্রিয়া বিঘ্নিতত করতে কোনো মহল নাশকতা করছে কিনাÑ তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আর বস্তিবাসী যেহেতু বিনামূল্যে বসবাস করে না, তাই তাদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করি। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য স্বল্প খরচের আবাসনের ব্যবস্থা করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..