বস্ত্র ও ব্যাংক খাতের অবদানে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

মো. আসাদুজ্জামান নূর: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবারও সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান সূচকের ৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধির দিনে লেনদেন আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২২৭ কোটি ২২ লাখ টাকা বেড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে লেনদেনে বড় অবদান রাখছে বস্ত্র, ব্যাংক, বিবিধ, ওষুধ ও রসায়ন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি খাতের কোম্পানিগুলো। ধারাবাহিকভাবে গত দুই দিন ব্যাংক খাতের উত্থান হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় পতনের মধ্যে থাকা বস্ত্র খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় এ খাতে। এসবের ওপর ভর করেই টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্থান হয়েছে পুঁজিবাজারে।

গতকাল ডিএসইতে মোট এক হাজার ৭২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবস বুধবারে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার। লেনদেন সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে বস্ত্র খাত। গতকাল লেনদেনে দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রথম সারির ৯টির সবকটি ছিল বস্ত্র খাতের। এছাড়া সর্বোচ্চ আট শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধি পাওয়া ২৮টি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের ছিল ২১টি।

গতকাল এ খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৮৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১০৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ১০টির ও অপরিবর্তিত ছিল তিনটির। এদিন সূচক বাড়ানোয় প্রধান ভূমিকায় থাকা ১০টি কোম্পানির মধ্যে বস্ত্র খাতের ছিল দুটি। এগুলো হলো মালেক স্পিনিং ও হামিদ ফেব্রিকস।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও গতকাল লেনদেন কমেছে ব্যাংক খাতের। লেনদেন হয় ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার। গতকাল ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ অবদান রাখা এ খাতের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস পায় এবং অপরিবর্তিত ছিল একটির।

পরের অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বাড়তে দেখা যায়। গতকাল লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে লেনদেনর পরিমাণ ১৯০ কোটি ৭৩ লাখ। বুধবার ১৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। গতকাল লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শেয়ারদর বাড়ে পাঁচটির, কমে ছয়টির ও অপরিবর্তিত ছিল দুটির।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন গতকাল আগের কার্যদিবসের চেয়ে বেশি ছিল। গতকাল লেনদেন হয় ১৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বুধবার ১৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। গতকাল ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ অবদান রাখা এ খাতের লেনদেন হওয়া ১২টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় এবং ১৮টির কমতে দেখা যায়।

বুধবারের চেয়ে লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিমা খাতের। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ১১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার। বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১০০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। গতকাল এ খাতের লেনদেন হওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় সাতটির। এছাড়া জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, খাদ্য প্রভৃতি খাতের প্রতি আগ্রহ ছিল বিনিয়োগকারীদের।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিন রোববার ও সোমবার সূচক পড়েছে ১৯০ পয়েন্ট। তবে মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়িয়ে সূচক বাড়ে ১২০ পয়েন্ট। পরের দিন ছয় পয়েন্টের পর তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার সূচক বাড়ে ৫০ পয়েন্ট। ফলে তিন দিনে সূচক ১৭৬ পয়েন্ট বাড়তে দেখা যায়।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫০ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ৬২ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস দুই দশমিক শূন্য চার পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৭৯ পয়েন্টে। আর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক পাঁচ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৬৩৮ পয়েন্টে স্থির হয়। গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ২২৩টির, কমেছে ১৩১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..