দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বহাল তবিয়তে আছে সেই এলএইচ ইন্টারন্যাশনাল

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে রেফারেন্স লাইসেন্স ভাগিয়ে নিয়েছিল ‘মেসার্স এলএইচ ইন্টারন্যাশনাল’, যা কাস্টমস কর্তাদের সহায়তায় ২০২৩ সাল পর্যন্ত নবায়নও করা হয়েছিল। তারপর বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দৃষ্টিগোচর হলে লাইসেন্সটি বাতিল করতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু এনবিআর চিঠি পাওয়ার পর দেড় মাস পেরুলেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ফলে বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এলএইচ ইন্টারন্যাশানাল।

জানা যায়, এনবিআরের চিঠি পাওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এলএইচ ইন্টারন্যাশনাল। গত দেড় মাসে (১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত) চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এলএইচ ইন্টারন্যাশনাল বিল অব এন্ট্রি নোটিং করেছে ৩৭৪টি; এর মধ্যে আমদানির বিল অব এন্ট্রি ছিল ১৯৫ ও রপ্তানির ১৭৯টি। যদিও চলতি বছরের ১৯ আগস্ট এনবিআর লাইসেন্সটি বাতিলের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে নির্দেশ প্রদান করে।

সূত্রে জানা যায়, চিটাগং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী হাওলাদারের প্রতিষ্ঠান এলএইচ ইন্টারন্যাশনালের মূল লাইসেন্স ২০০৮ সালে জাল-জালিয়াতির দায়ে বাতিল করে ভোমরা শুল্ক স্টেশন। মূলত তার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ব্যবসা করার কূটকৌশল শুরু করে। সর্বশেষ কোনো ধরনের আইন না মেনে ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেফারেন্স লাইসেন্স নবায়ন করে এই প্রতিষ্ঠান, যদিও মূল লাইসেন্স বাতিল হলে রেফারেন্স লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ নেই।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ‘এসআরও নং-১৭৪-আইন/২০১৬/৩৬/কাস্টমস’ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রেফারেন্স লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কাস্টমস এজেন্টকে মূল লাইসেন্সে উল্লিখিত কাস্টমস স্টেশন ব্যতীত অন্য কোনো কাস্টমস স্টেশনের রেফারেন্স লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য মূল লাইসেন্সের কপি এবং বিধি-৫ এ বর্ণিত দলিলাদিসহ আবেদন করতে হবে এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উক্ত দলিলাদি যাচাই-বাছাইপূর্বক আবেদনকারীর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে রেফারেন্স লাইসেন্স প্রদান করবে। একই সঙ্গে কাস্টমস এজেন্টের ন্যূনতম ১০ বছরের সন্তোষজনক কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা থাকার কথাও বলা হয়েছে। যদিও রেফারেন্স

 লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কাস্টম হাউস মূল কাস্টম হাউসে চিঠি পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সব বিষয়ের তথ্যসহ পাঁচ বছরের সন্তোষজনক কার্যক্রম মূল্যয়ন করে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস লিয়াকত আলী হাওলাদারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এলএইচ ইন্টারন্যাশানালের রেফারেন্স লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে কোনোটি অনুসরণ করেনি। জানা যায়, লিয়াকত আলী হাওলাদার বাতিলকৃত মূল লাইসেন্স কাস্টমসের লাইসেন্স শাখায় দাখিল না করে ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ২০১৮ সালে নবায়ন করা হয় ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

এদিকে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর এনবিআর নথি ০৮.০১.০০০০.০৫.০০৩.১৬/১৮০ নং চিঠিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে বলা হয়, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স এলএইচ ইন্টারন্যাশানালের মূল লাইসেন্স ২০০৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাতিল হলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ১৪ নভেম্বর ২০১৮ সাল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত নবায়ন করে, যা বিধিসম্মত হয়নি মর্মে প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এ চিঠি পাওয়ার পর দেড় মাসের বেশি সময় এরই মধ্যে অতিবাহিত হলেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এদিকে মেসার্স এলএইচ ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে নাÑএমন প্রশ্নের উত্তর পেতে লাইসেন্স কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নূর রাশেদ আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গত শনিবার কথা হলে তিনি শেয়ার বিজকে জানান, ‘এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না। আপনি আগামী কাল অফিস আওয়ারে ফোন করেন। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে বিস্তারিত জানাতে পারব।’ কিন্তু একাধিকবার ফোন করলেও রাশেদ আহম্মেদ ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এ বিষয়ে লাইসেন্স শাখার সদস্য সচিব চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার একেএম সুলতান মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এই শাখায় নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। খুব দ্রুত লাইসেন্স কমিটি মিটিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..