দিনের খবর প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানির দরপতনে মিশ্র অবস্থানে সূচক

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও সূচকে সে চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। মূলত ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি সূচকে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। ডিএসইএক্স ও ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক সামান্য বাড়লেও ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতনে এ সূচকটি নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। এছাড়া বেশি দামি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই দরপতনে ছিল। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেকিট বেনকিজার, ম্যারিকো, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, বার্জার পিবিএল, লিন্ডে বিডি, বিএটিবিসি, বাটা শু কোম্পানির দরপতন হয়। অন্যদিকে লেনদেন ও দর বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে।
আগের দিনের তুলনায় দুই শতাংশ বেড়ে প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতে ৬৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে ন্যাশনাল টিউবস। শেয়ারটির দর সাত টাকা ৪০ পয়সা বেড়েছে। মুন্নু জুট স্টাফলার্সের সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৫০ টাকা ২০ পয়সা দরপতন হয়। কপারটেকের সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে দুই টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে। এক শতাংশ লেনদেন বেড়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বীকন ফার্মার সোয়া ১১ কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৭০ পয়সা দরপতন হয়। পৌনে ১০ শতাংশ বেড়ে সিলভা ফার্মা দর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তিন শতাংশ বেড়ে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৬২ শতাংশ ইউনিটের দর বেড়েছে। চার মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ফান্ডগুলো হচ্ছে: এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ও এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ডের প্রায় আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৬০ পয়সা দরপতন হয়। এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের সোয়া পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৮০ পয়সা। বিমা খাতে ১১ শতাংশ লেনদেন হয়। দর সংশোধনের কারণে এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হলেও দেড় টাকা দরপতনে ছিল কোম্পানিটি। বস্ত্র খাতে তিন শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ৯ শতাংশ। দর বেড়েছে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির। জ্বালানি খাতে লেনদেন কমেছে চার শতাংশ। এ খাতে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ইউনাইটেড পাওয়ারের সাত টাকা দরপতনে সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া আগের দিন এ খাতের সরকারি কোম্পানিগুলো ভালো করলেও গতকাল বড় পতনে চলে যায়। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ইনটেক লিমিটেড দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। বিবিধ খাতে ৬১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়; দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। এছাড়া ছোট খাতগুলোয় দর বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..