আজকের পত্রিকা দিনের খবর পুঁজিবাজার বাণিজ্য সংবাদ শেষ পাতা সাক্ষাৎকার

‘বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসব’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। এরই মধ্যে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) পুঁজিবাজারের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে শেয়ার বিজের মুখোমুখি হন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ। এর চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন।

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: ধন্যবাদ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে এই বাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারি। সবার সহযোগিতা পেলে আমার কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

শেয়ার বিজ: দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়। সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি, যে কারণে বহুদিন পুঁজিবাজার বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: হ্যাঁ, এ অবস্থায় দায়িত্ব নেওয়াটা চ্যালেঞ্জ বটে। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা। আমরা এই চ্যালেঞ্জটিকে সবার সহযোগিতায় মোকাবিলা করব। এছাড়া সামনের দিনগুলোয় বাজারকে একটি সত্যিকার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আগে কাঠামো ছিল না, কিন্তু গত ১০ বছরে আমরা কাঠামো পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনকানুন ও নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এতে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব একটা ভালো ক্যাপিটাল মার্কেট তৈরি করা।

শেয়ার বিজ: বর্তমানে করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে সারা বিশ^ নাকাল। প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। পুঁজিবাজারে এর প্রভাব কতটা পড়েছে বলে মনে করছেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: সারা বিশে^র মতো আমাদেরও এই ভাইরাসটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এতে অর্থনীতির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পুঁজিবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন বাজার বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ এখানে তাদের অনেক অর্থ আটকে পড়ে রয়েছে। এটা একটা বড় ক্ষতি। এটা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সর্বশেষ বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে গ্রামীণফোন। সেটা ২০০৯ সালে। এরপর আর এমন কোম্পানি দেখা যায়নি। এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে আপনার কী পদক্ষেপ থাকবে?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: দায়িত্ব গ্রহণ করেই আমি এ বিষয়ে মিটিং করেছি। পুঁজিবাজারের জন্য বহুজাতিক কোম্পানির গুরুত্ব অনেক বেশি। এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বেশি। তবে এ কথাও সত্যি, তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসাও একটি কঠিন কাজ। কারণ এসব কোম্পানি তাদের দেশে যেমন সুবিধা পায়, আমাদের এখানে সেই ধরনের সুবিধা নেই। ব্যক্তিগতভাবে অনেক বিদেশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কটা দীর্ঘ দিনের। তাই চেষ্টা থাকবে সেইসব কোম্পানি আমাদের দেশে নিয়ে আসা এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার। পাশাপাশি যেসব কোম্পানি এখন আমাদের দেশে রয়েছে, তাদেরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেব। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসব।

শেয়ার বিজ: সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড এবং এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে রয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে গুরুত্ব দেবেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: বিয়য়টি নিয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও চান পুঁজিবাজারে এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তি ঘটুক। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য যত ধরনের সহযোগিতা দরকার অর্থমন্ত্রী তা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আমার ইচ্ছা রয়েছে দ্রুত এসব কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসার।
শেয়ার বিজ: বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আলাদা করে কিছু ভেবেছেন কি?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: জি, ভালো প্রশ্ন করেছেন। অন্যান্য কোম্পানি নিয়ে আমার আলাদা ভাবনা রয়েছে। আমার চেষ্টা থাকবে ভালো মানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার। কারণ ভালো মানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি ঘটলে বাজার যেমন ভালো হয়, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হন। তাই সবার আগে বিনিয়োগকারীদের কথা ভাবব। তাদের স্বার্থেই বাজারে ভালো কোম্পানি আসা দরকার।

শেয়ার বিজ: নতুন দায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কী বলবেন?
শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: এ প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত আগেই দিয়েছি। এ বাজারটা বিনিয়োগকারীদের নিয়ে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় সবাই আগে তাদের কথা ভাবব। তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে নজর থাকবে। আর করোনা পরিস্থিতিতে তাদের বলব ধৈর্যধারণ করতে। পাশাপাশি সবাইকে সাবধানে থাকতে অনুরোধ করব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..