বহুমাত্রিক দারিদ্র্য রোধে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ুক

তাত্ত্বিকভাবে দুই পদ্ধতিতে দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয়ে থাকে; আয় দারিদ্র্য ও বহুমাত্রিক দারিদ্র্য। আয় দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তির দৈনিক রোজগারকে বিবেচনায় নেয়া হয়। আর বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান, সাক্ষরতার মাত্রা, পুষ্টি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি আয়ের বিবেচনায় দরিদ্র হিসেবে পরিগণিত না হলেও বহুমাত্রিকতার হিসেবে দরিদ্র হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। আর সাম্প্রতিক এ গবেষণা বলছে আয়ের হিসাবে দেশে বর্তমানে যত-সংখ্যক মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার, বহুমাত্রিকতার হিসাবে সে সংখ্যা দ্বিগুণ। এ ধরনের দারিদ্র্য রোধে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম জোরদার হওয়া উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘দেশে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যহার চরম দারিদ্র্যের দ্বিগুণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশে চরম দারিদ্র্যের শিকার মানুষের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বহুমাত্রিকতার হিসাবে এ দারিদ্র্য ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আয়ের বিবেচনায় যেসব জেলায় চরম দারিদ্র্য হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, সেখানেও বহুমাত্রিক দারিদ্র্যহার বেশ উচ্চ। এ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হ্রাসে লাগসই পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত আবশ্যক বলে মনে করি।

২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে মূলত আয় দারিদ্র্য বিবেচনায় রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়নি। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টেও দারিদ্র্য শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও শুধু আয় দারিদ্র্যকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু আয় দারিদ্র্যের পাশাপাশি বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরসনেও পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করি।

বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সঙ্গে মানুষের জীবনচক্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মূলত যেসব অঞ্চলে শিক্ষার হার ভালো এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বেশি, সেসব অঞ্চলে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার অপেক্ষাকৃত কম বলেই প্রতীয়মান। এছাড়া নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগও বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হ্রাসে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।

বর্তমানে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের আওতায় শতাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এসব কর্মসূচিতে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হ্রাসের অনুসঙ্গগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য মানুষের জীবনচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই জীবনচক্রে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার কী কী ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ গ্রহণ করা যেতে পারে। বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হ্রাসে সর্বব্যাপী শিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা বাড়ানো ও বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারের উচিত এ ধরনের কর্মসূচিগুলোতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


সর্বশেষ..