শোবিজ

বাঁচতে চান চলচ্চিত্র পরিচালক জাকির খান

নরসিংদী প্রতিনিধি: বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ জাকির খান প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তশালীদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। জীবনের শেষ সময় অর্থ সংকটে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করতে না পেরে মৃত্যুপথযাত্রী এ পরিচালক ও প্রযোজক। ৩৪ বছর কর্মজীবনে অর্জিত সব সঞ্চয়, ভিটে-মাটি বিক্রি করেও চিকিৎসা ব্যয় সম্পন্ন না হওয়ায় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সমাজের বিত্তশালীদের কাছে।
পারিবারিক জীবনে চার কন্যাসন্তানের এ জনক চলচ্চিত্র নির্মাণেই জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন। মনের অজান্তে, মন চুরি, রাঙামন, চার অক্ষরের ভালোবাসাসহ পূর্ণাঙ্গ ১১টি চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ’, ‘স্বপ্নের মধ্যে তুমি’ ছাড়াও যৌথ পরিচালনা-প্রযোজনায় নির্মাণ করেছেন অসংখ্য বাংলা ছায়াছবি।
সম্প্রতি তার শরীরে মরণঘাতী টিস্যু ক্যানসার ধরা পড়ায় ক্রমেই নিভে যাচ্ছে বাঁচার আশা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে তার। যার দৃষ্টান্ত দেশের খ্যাতনামা শিল্পী আলমগীর ও সাবিনা ইয়াসমিন। তবে এ জন্য অতি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন, যা বাংলাদেশেই সম্ভব।
অসুস্থ বিষয়ে পরিচালক মোহাম্মদ জাকির খান বলেন, চলচ্চিত্রের কল্যাণের জন্য কাজ করেছি দীর্ঘ ৩৪ বছর। মরণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে আমার জীবনে অর্জিত সব সঞ্চয় ব্যয় করেছি। পৈতৃক ভিটে-মাটি বিক্রি করেও কোনো উপায় দেখছি না। এরই মধ্যেই দেশ ও দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন আরও অন্তত ছয়টি ইনজেকশন নিতে হবে। যার মূল্য সহকারে ব্যয় পড়বে সাত লাখ টাকা। কিন্তু আমার কাছে নিজ প্রাণটুকু ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। সংসার জীবনে চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হলেও বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আরও দুই কন্যাসন্তান আছে। যদি সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তায় সুস্থ হয়ে কর্মে ফিরে যাই তবেই তাদের মুখে খাবার ও হাসি ফুটবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে কিছু অর্থ সহায়তা পেয়েছি, যা অনেক আগেই ব্যয় করেছি। তাই আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিত্তবানদের কাছ থেকে অর্থসহ সার্বিক সহায়তা প্রত্যাশা করছি।
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু বলেন, মানব জীবনে বিনোদনের অন্যতম খোরাক বাংলা চলচ্চিত্র। আর আমাদের হাজীপুরের কৃতী সন্তান প্রায় ৩৪ বছর ধরে চলচ্চিত্রে সময় ব্যয় করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যে মরণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত তাতে প্রচুর চিকিৎসা ব্যয়। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সরকারি কোনো অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে তার জন্য কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে বাকি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য এককভাবে নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশ ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাই।

সর্বশেষ..