প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাঁশ-বেতে ঘুরছে সংসারের চাকা

 

শুভ্র শচীন: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার তিনটি গ্রামে রয়েছে ১৫০ ঋষি পরিবার। পরিবারগুলো বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সাম্প্রতি বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা ও মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তারা সচ্ছল হয়ে উঠছে। আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায়ও সচেতন হয়ে উঠছে।

উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের পুরাইকাটী, গোপালপুর ও হিতামপুর গ্রামের ঋষিরা কয়েক প্রজš§ ধরে এ কাজ করছেন। কিছুদিন আগেও তাদের পরিবারে অভাব-অনটন লেগে থাকতো। জিনিসপত্র বিক্রির অর্থ দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে থাকাই দায় হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কথা চিন্তায় আনতেন না অভিভাবকরা। আশির দশকে উপকূলীয় এ অঞ্চলে চিংড়ি ও মাছ চাষ শুরু হওয়ার পর থেকে বাড়তে থাকে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা।

বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। বছরে উৎপাদন হয় ১৫ হাজার মেট্টিক টন চিংড়ি ও কাঁকড়া। উৎপাদিত মাছ ও  কাঁকড়া সরবরাহের জন্য প্রয়োজন বাঁশের ঝুড়ি। মাছ ও কাঁকড়া উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের চাহিদামতো ঝুড়ি ও অন্য উপকরণ সরবরাহ করেন ঋষি পরিবারের সদস্যরা।

গত কয়েক বছরে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের যেমন চাহিদা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কাঁচামালের দাম। প্রতিদিন ঘরে বসে নারী ও পুরুষরা তৈরি করেন জিনিসপত্র। কেউ ফাঁড়েন বাঁশ, কেউ সুন্দর করে সাইজ করেন বাঁশের শলাকা। পুরাইকাটী গ্রামের মৃত চিত্তরঞ্জন দাশের ছেলে পবিত্র কুমার দাশ জানান, কয়েক বছরে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। একসময় এসব শুধু গৃহস্থালির কাজে ব্যবহƒত হতো। তার দুই ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়ছে। পুঁজির অভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়েন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

খুলনা