বাণিজ্য সংবাদ

বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর আহ্বান

ব্রাজিলের সাও পাওলো চেম্বারের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বাংলাদেশ বিশ্বমানের তৈরি পোশাক উন্নত বিশ্বে রফতানি করছে। উচ্চহারে আমদানি শুল্ক থাকার কারণে বাংলাদেশ আশানুরূপ তৈরি পোশাক ব্রাজিলে রফতানি করতে পাচ্ছে না। ব্রাজিলে পণ্য রফতানিতে বর্তমানের ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে আনা হলে বা শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলে ব্রাজিলের মানুষ কম মূল্যের বাংলাদেশের বিশ্বমানের তৈরি পোশাক কিনতে পারবেন।
গত ২০ আগস্ট দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসার (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমন্বয়ে গঠিত বাণিজ্যিক জোট) সফরের প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় দিন ব্রাজিলের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন সাও পাওলো চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী ব্রাজিলের আমদানিকারকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বিদ্যমান আমদানি শুল্কহার কমাতে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদেরও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ আমদানি শুল্কহার কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের পণ্যের রফতানি, বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী সাও পাওলোর প্রাদেশিক ফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং ব্রাজিলের বস্ত্র ও পোশাক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রণোদনা, বিশাল বাজার ও বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত রফতানির সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফর করতে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীদের একটি ইকোনমিক জোন বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ব্রাজিলের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন সাও পাওলো চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা বিষয়ে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সম্ভাবনা ও সাফল্য বিষয়ে আরেকটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণে তৈরি পোশাক আমদানির জন্য ব্রাজিলের আমদানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিজিএমইএ এবং সাও পাওলো চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। বৈঠকে বিজিএমইএ ও ব্রাজিলের বস্ত্র ও পোশাক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৭-৮ নভেম্বর সাও পাওলোতে বিজিএমইএ’র উদ্যোগে ব্রাজিলে বাংলাদেশের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ মেলায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ ব্রাজিলে রফতানি সম্ভাবনাময় ওষুধ, পাট, সিরামিক, প্লাস্টিক প্রভৃতি পণ্য প্রদর্শন করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী সফররত ১৫ সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের প্রতিনিধি, বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক, বিকেএমইএ’র প্রতিনিধি, ওষুধ শিল্পের প্রতিনিধি ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী নেতারা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

সর্বশেষ..