নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হিমায়িত পোল্ট্রি মাংস, মাংসজাত পণ্য এবং ডিম আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে কুয়েত সরকার। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশের পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলো।
কুয়েতের পাবলিক অথরিটি ফর ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন (পিএএফএন) বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা হিমায়িত পণ্যের স্বাস্থ্যগত ও মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখে এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের অনুমোদিত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় কুয়েতে হিমায়িত খাদ্যপণ্য পাঠাতে পারবে।
দূতাবাস জানায়, কুয়েত সরকার বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হিমায়িত মুরগির মাংস, মাংসজাত পণ্য ও ডিম আমদানির ওপর আগের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নিয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মান নিয়ে কিছু অভিযোগের কারণে কয়েক বছর আগে কুয়েত বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। এতে দেশের চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। বহু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য হয়, আবার অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, কুয়েত শুধু একটি বাজার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। কুয়েতের বাজারে পুনরায় প্রবেশের মাধ্যমে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারেও বাংলাদেশের হিমায়িত পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে।
একজন শীর্ষ রপ্তানিকারক জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছরে কুয়েতের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল। এখন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বছরে কয়েকশ কোটি টাকার অতিরিক্ত রপ্তানি আয় সম্ভব হবে। এতে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, বরং চিংড়ি চাষি, জেলে, প্রসেসিং শ্রমিক ও পরিবহন খাতের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানও আরও নিরাপদ হবে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েতের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মান ও রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। রপ্তানি পর্যায়ে নিয়মিত ল্যাব টেস্ট, হাইজিন মনিটরিং ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি পর্যায়েও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের হিমায়িত পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিশেষ তদারকি টিম গঠন করা হবে। একইসঙ্গে রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক মান মেনে চলার বিষয়ে আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে কুয়েতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাংলাদেশের হিমায়িত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও মাননিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারলে, এই সুযোগ দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post