প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজে ভারত-চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: বার্নিকাট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের স্থিতিশীল উচ্চাভিলাষী উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে ভারত ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা করে না। বরং কাজ ভাগাভাগির মাধ্যমে তিন দেশ মিলে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আইইউবি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে চীন, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতার বিকাশ সাধন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইইউবি’র খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রাশেদ কে চৌধূরী, ভিসি অধ্যাপক ওমর রহমান, গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামের প্রধান ইমতিয়াজ এ হোসেন বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে বার্নিকাট বলেন, আমি একটি মিথ্যা দূর করতে চাই, আর তা হলো, বাংলাদেশে ভারত কিংবা চীনের সঙ্গে (যুক্তরাষ্ট্রের) কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তিন দেশের সবাই মিলে সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের লক্ষ্যগুলোকে ভাগাভাগি করে নিই। আমরা স্বীকার করি, উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন লক্ষ?্য অর্জনে বাংলাদেশের প্রয়োজন একক দেশের ঊর্ধ্বে উঠে ভালো আইডিয়া ও সম্পদের। এজন?্য অন?্যান?্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছ থেকে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে খুবই আগ্রহী। যখন মার্কিন কোনো কোম্পানি নতুন কোনো বাজারে প্রবেশ করে, তখন তারা বড় আকারের দক্ষতা, পুঁজি ও প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়।

বাংলাদেশে কাজ করা মার্কিন কোম্পানিগুলো স্থানীয় শ্রমশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার উপযোগী করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান ও পরিবেশ বজায় রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপর্যাপ্ত কানেকটিভিটির কারণে বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশীরা ব?্যবসায়িক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মন্তব?্য করে বার্নিকাট বলেন,  বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং আঞ্চলিক উৎপাদনক্ষেত্র হওয়ার সব অর্থনৈতিক ভিত্তি বাংলাদেশের রয়েছে। দুই দশক ধরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ধরে রাখা, বড় আকারের যুব ও নির্ভরযোগ?্য শ্রমশক্তি, সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের বিশাল বাজার, সৃজনশীল বেসরকারি খাত এবং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত স্থানে এর অবস্থান এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়।

সমন্বিত যোগাযোগব?্যবস্থায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন আরও বাড়ানো এবং সমন্বিত জ্বালানি গ্রিডের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সমস?্যার অনেকটা সমাধান হতে পারে বলে পরামর্শ দেন বার্নিকাট।

এছাড়া বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর কেন্দ্রে থাকায় বাংলাদেশে বিমসটেকের সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব?্য করেন সংস্থার বাংলাদেশ পরিচালক কুনজাং এন তসেরিন। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কারণে বিমসটেকের কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা জটিল মন্তবয করেন তিনি বলেন, আমরা অনেক কিছু করি, যেটা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। আমরা বাণিজয, যোগাযোগ ও জ্বালানি নিয়ে কথা বলি; আমরা বলি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে, মানুষ ও মাদক পাচার নিয়ে। আবার এসব ক্ষেত্রে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও পাওয়া যায়। তবু বিমসটেকের পক্ষ থেকে নানা ধরনের কাজের সুযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে মন্তবয করেন তসেরিন।