করপোরেট টক

বাংলাদেশের খাদ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে কেএফসি

বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কেএফসি (কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন)। ফ্রাইড চিকেনে বেশ জনপ্রিয় এ ব্র্যান্ডটির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো

বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কেএফসি (কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন)। ফ্রাইড চিকেনে বেশ জনপ্রিয় কেএফসি। এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত একটি ফুড ব্র্যান্ড।
কেএফসি প্রতিষ্ঠা করেন কর্নেল হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স। বিশ্বখ্যাত ব্যবসায়ী হওয়ার আগে স্যান্ডার্স ছিলেন স্কুল থেকে ঝরেপড়া এক ছাত্র, একজন ক্ষেতমজুর, ট্রেনের ফায়ারম্যান, আইনজীবী, বিমা কোম্পানির সেলসম্যান, ডিঙিনৌকার উদ্যোক্তা, গাড়ির টায়ার বিক্রেতা, শখের ধাত্রীবিশারদ, অসফল রাজনীতিক, ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ও সর্বশেষ একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ১৯৫২ সালে স্যান্ডার্স সিদ্ধান্ত নেন ‘চিকেন ফ্রাই’ ধারণাটাকে আয়ের উৎসে পরিণত করবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেলবাই ভ্যালিতে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেন। তাদের রেস্তোরাঁটি ব্যবসাসফল হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ।
২০০৬ সালে রাজধানীর গুলশানে ইয়াম ইন্টারন্যাশনালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা করে কেএফসি। পরে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের ব্যানারে চলে আসে। সে থেকে বর্তমানে ট্রান্সকম ফুড লিমিটেড পরিচালনা করছে কেএফসি। গত ১৩ বছরে ব্র্যান্ডটি দেশের ফুড সেক্টরে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট খাতে এখন যেসব আন্তর্জাতিক ফুড ব্র্যান্ড রয়েছে সেগুলো চালু করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে কেএফসি।
ফুড সেক্টরকে সুসংগঠিত করে একটি করপোরেট খাত তৈরিতে বড় ভূমিকা রয়েছে কেএফসির। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরাই এখন নান্দস, টনি রোমাস, জনি রকেটস, পিজ্জা হাট, ম্যানহাটান ফিশ মার্কেট, গ্লোরিয়া জিনস, হারফি, ফিশ অ্যান্ড কো, সেকেন্ড কাপ কফিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ফুড সেফটি নিয়ে কোনো আপস করে না কেএফসি। সুস্বাদু খাবার পরিবেশনে সব ধরনের নিয়ম-কানুনসহ ফুড ম্যানেজমেন্ট চালুতে কেএফসির ভূমিকা অনস্বীকার্য। গ্রাহকদের শতভাগ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণসহ বাংলাদেশের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কেএফসি তার কার্য পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও নিয়মিত প্রতিষ্ঠানটির সব শাখা পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট।
বর্তমানে বাংলাদেশে কেএফসির ২১টি শাখা রয়েছে। ঢাকায় ১৮টি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটে একটি করে শাখা রয়েছে এর। প্রতি বছরই রেস্টুরেন্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকছে। এ বছর কয়েকটি শাখা বাড়ানো হবে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের
আয়-ব্যয় ও গ্রাহকের সার্ভিস সক্ষমতা মাথায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে কেএফসি। সবকিছু বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাখা বাড়ানো হচ্ছে।
এক দশক আগেও বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টগুলোয় মান নিয়ন্ত্রণের কোনো বালাই ছিল না, ছিল না কোনো আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্টও। ফাইভ স্টার হোটেলগুলোয় একাধিক মানসম্পন্ন রেস্টুরেন্ট থাকলেও তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। কেএফসি সেই শূন্যতা পূরণ করে দেশের খাদ্য খাতে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ছোট-বড়, ধনী-গরিবসহ সব শ্রেণির মানুষকে ফ্রাইড চিকেনের প্রতি অভ্যস্ত করেছে কেএফসি।
বাংলাদেশে বর্তমানে সিপি, বিএফসি ও সিএফসিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় দুই ডজন ফ্রাইড চিকেনের ব্র্যান্ড বহালতবিয়তে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব ফ্রাইড চিকেন রেস্টুরেন্টের কাঁচামাল সরবরাহে দেশি উদ্যোক্তারা পোলট্রি ফার্ম করেছেন। দেশের আপামর জনতার পুষ্টির চাহিদা পূরণে বড় ধরনের অবদান রাখছেন তারা। এ ব্যাপারে কেএফসিপ্রেমী এমএসএ ফাহমি বলেন, আগে ফ্রাইড চিকেন বলতে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে ছোট মুরগি ভাজা বোঝানো হতো।
দেশের এক থেকে দুই শতাংশ মানুষ বছরে বিভিন্ন চায়নিজ রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। কিন্তু কেএফসি ফ্রাইড চিকেনে বৈচিত্র্যতা এনেছে। তাই গত ১৩ বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফ্রাইড চিকেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাছ-মাংস ও ডাল-ভাতের বিকল্প হিসেবে বাঙালির খাদ্যতালিকায় চলে এসেছে ‘ফ্রাইড চিকেন’।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কেএফসি রমজানে ইফতার পার্টির আয়োজনসহ বড়দিনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের লাঞ্চ বিতরণ করে থাকে। এছাড়া ‘মজার স্কুল’ নামে একটি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্টেশনারি ও খাবার বিতরণ করে থাকে। প্রতি বছরই কেএফসি এসব আয়োজন করে আসছে।

একনজরে প্রতিষ্ঠাতা

হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স
ডাকনাম: কর্নেল স্যান্ডার্স
বাবা: উইলবার স্যান্ডার্স
মা: মার্গারেট অ্যান ডানলেভি
জন্ম: ১৮৯০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর
জন্মস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের হেনরিভিলে
স্ত্রী: জোসেফাই কিং ও ক্লদিয়া প্রাইস
সন্তান: মিল্ডরেড স্যান্ডার্স রাগলস, হারল্যান্ড স্যান্ডার্স ও জুনিয়র মার্গারেট স্যান্ডার্স
মৃত্যু: ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্বর

শিক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনন্য

কেএফসিতে সার্ভিসিংয়ের পাশাপাশি এর পেছনে যারা কাজ করেন, তাদের ‘টিম মেম্বার’ বলা হয়। তাদের বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের। এ টিম মেম্বাররাই ধীরে ধীরে ম্যানেজার, শিফট ম্যানেজার, রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারে পদোন্নতি পেয়ে এখানেই উন্নত ক্যারিয়ার গড়ছেন। তাদের মধ্যে সুপার পারফরমাররা বিদেশি ব্র্যান্ডেও চাকরি পাচ্ছেন। উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও কঠোর নিয়মাবলির মধ্যে থেকে টিম মেম্বাররাই ধীরে ধীরে করপোরেট এক্সিকিউটিভ হিসেবে বাংলাদেশের ফুড সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সন্তুষ্ট সব ভোক্তা

কেএফসির তৈরি ভাজা মাংস খেয়ে আঙুল চাটেনি এমন মানুষ উন্নত বিশ্বে বিরল। সে পথে হাঁটতে বাঙালিদেরও অভ্যস্ত করে চলেছে কেএফসি।
রাজধানীর ধানমন্ডি নিবাসী ব্যাংকার ফাহমিদা খাতুন। দুই সন্তানের জননী ফাহমিদা সংসার সামলে তিন বছর ধরে চাকরি করছেন দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। খাবারে ভিন্ন স্বাদ নিতে মাঝেমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খেতে যান। সম্প্রতি ধানমন্ডির কেএফসিতে খাবার নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাসার খাবার তো প্রতিদিনই খাওয়া হয়। মাঝেমধ্যে তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইরে খেতে আসি। এতে পরিবারের সঙ্গে ভিন্ন সময়ও কাটানো হয়; ফলে পরিবারের সবাই খুশি থাকে। অনেক সময় বাসায় গ্যাস থাকে না, মাঝেমধ্যে কাজের বুয়াও থাকেন না। অফিস শেষ করে বাসায় এসে রানাবান্না করতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশি ঝামেলা না করে পরিবার নিয়ে বাইরের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে বের হই। বাসার খাবারের চেয়ে কেএফসির দাম কিছুটা বেশি হলেও রান্নাবান্নার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কেএফসির জিভে জল আনা খাবার খেতে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আসেন মৌরি সূচি। তার মতে, বিশ্বের সেরা পাঁচটি খাবারের মধ্যে একটি কেএফসির ভাজা মাংস।
কথা হয় আবিদ হাসান আলভীর সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্যরকম মজাদার স্বাদ পরখ করতেই নিয়মিত কেএফসির খাবার খাই। এখানে এলেই মনের খোরাক মিটে যায়।
তারিক ইমাম ইভু নামে আরেক ভোজনরসিক বলেন, অদ্ভুত এক ধরনের স্বাদ রয়েছে কেএফসির সব খাবারে।

সবার প্রিয় মেন্যু চিকেন

# চিজ্জা ৩৯০ টাকা
# ৮ পিস বাকেট এক হাজার ৩৯ টাকা
# ১২ পিস বাকেট এক হাজার ৫৪৯ টাকা
# ১২ পিস স্মকি গ্রিল এক হাজার ৫৪৯ টাকা
# ৪ পিস হট অ্যান্ড ক্রিসপি চিকেন ৫৪৯ টাকা
# কেএফসি ফেভারিট ৪৯৯ টাকা
# মিঙ্গেল বাকেট ৪৯৯ টাকা
# ৮ পিস স্মকি গ্রিল এক হাজার ৩৯ টাকা
# আনলিমিটেড সেভিংস বাকেট ৮৫০ টাকা
# পপকর্ন রাইস ডিউ ৩৯৯ টাকা।

বার্গার
# ডাবল বার্গার ৪১৯ টাকা
# সুপার বার্গার ২৪৯ টাকা
# হট জিনগার ২৯৯ টাকা
# চিকেন জিনগার ২৮৫ টাকা
# ভেগি বার্গার ২৭০ টাকা।

রাইস মেইলস

# পপকর্ন রাইস ডিউ ৩৯৯ টাকা
# স্মকি গ্রিল রাইস বোল ২৪৯ টাকা
# হট অ্যান্ড ক্রিসপি রাইস বোল ২৪৯ টাকা
# পপকর্ন রাইস বোল ২৪৯ টাকা
# হট উইং রাইস বোল ২৪৯ টাকা
# ক্রিপসি থাই চিকেন রাইস ২৮৯ টাকা
# মাশরুম রাইস উইথ চিকেন ২৮৯ টাকা
# চিকেন রিজো রাইস মেল ২১৯ টাকা।

স্ন্যাকস

# ৩ পিস বোনলেস চিকেন স্পিপস ২৫৯ টাকা
# ৬ পিস বোনলেস চিকেন স্পিপস ৪৮৯ টাকা
# ৩ পিস হট উইং ১৪৯ টাকা
# ৬ পিস হট উইং ২৭৯ টাকা
# চলেসলাও ৭৯ টাকা
# রিজো রাইস ৯৯ টাকা।

ড্রিংকস

# মাউন্টেন ডিউ ৩০ টাকা
# সেভেন আপ ৩০ টাকা
# পেপসি ৩০ টাকা
# অ্যাকুয়াফিনা ওয়াটার ১৫ টাকা।

ডেইলস
# চিজ্জা ৩৯৯ টাকা
# আনলিমিটেড সেভিংস বাকেট ৮৫০ টাকা
# ডিপস বাকেট ৭৫০ টাকা
# মিঙ্গেল বাকেট ৪৯৯ টাকা
# বিগ ৮ ৭৫০ টাকা
# ৪+৪ বাকেট ৬০০ টাকা
# ডাবল চার্জার ৪১৯ টাকা
# কেএফসি ফেভারিট ৪৯৯ টাকা
# পপকর্ন রাইস কমবো ৩২৯ টাকা
# জিনজার কমবো ৪১৯ টাকা
# পপকর্ন রাইস ডিউ ৩৯৯।

 

সর্বশেষ..