দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৬%

২০২০ সাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছর শেষে রেমিট্যান্সে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে সাত শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছর শেষে বাংলাদেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ এক হাজার ৯৭৫ কোটি ডলার হতে পারে। এর পূর্বে করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তখন আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি ধারণা দিয়েছিল, গত বছরের চেয়ে এর পরিমাণ ২২ শতাংশ কম হবে।

গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ব রেমিট্যান্স পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ‘কভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রো মাইগ্রেশন লেন্স’ শীর্ষক হালনাগাদ প্রতিবেদনটিতে এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৮৩৬ কোটি ডলার। শুধু বাংলাদেশ নয়, মেক্সিকো ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মেক্সিকোর ক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে পেসোর অবমূল্যায়ন এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ‘হজ বন্ধের প্রভাব’ ও কর মওকুফকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘হজ বন্ধের প্রভাব’ ছাড়াও রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে আরও বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশের মুসলিম প্রবাসীরা হজের জন্য টাকা জমিয়ে রাখেন। কিন্তু মহামারির কারণে এবার হজ বন্ধ থাকায় তারা সেই টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির পেছনে বন্যাকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ও ৪৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের প্রবাসী স্বজন বেশি টাকা পাঠিয়েছেন।

এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারির কারণে বেশিরভাগ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নেমেছে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ শতাংশ। এটা আরও বেড়ে ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশÑএমন ধারণা করা যাচ্ছে।

মহামারির মধ্যে এপ্রিল-জুন সময়ে শাটডাউনের কারণে অর্থ জমে যাওয়া ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনানুষ্ঠানিক (হাতে হাতে বহন ও হুন্ডি) থেকে আনুষ্ঠানিক বৈধ পথে (ব্যাংকের মাধ্যমে) অর্থ আসাকেও রেমিট্যান্স বাড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার যে দুই শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, প্রবৃদ্ধিতে তারও ভূূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) প্রায় সোয়া ৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর মাসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এক মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। এর আগে এই মহামারির মধ্যেই গত জুলাই মাসে দুই দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..