খবর

বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে পাঁচ দেশের শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় (আইএলও) পাঁচ দেশের শ্রমিক সংগঠন অভিযোগ দায়ের করেছে। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন আইএলও’র তিনটি কনভেনশন মানছে না বাংলাদেশ এ মর্মে অভিযোগ করে আইএলওকে একটি ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তিন মাস সময় পেয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আইএলওর গভর্নিং বডির বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে নিজের মতামত জানিয়ে অভিযোগটি গ্রহণ না করার আহ্বান জানাবে সরকার।

এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতালি, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান ও ব্রাজিলের শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি করা হয়েছে। কিন্তু, মজার বিষয় হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগেরই বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।’

কী কী অভিযোগ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা মূলত চারটি অভিযোগ করেছে। অভিযোগগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ শ্রম আইন ও ইপিজেড আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সংগঠন করতে শ্রমিকদের বাধা দেওয়া, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ছাঁটাই ও পুলিশি হয়রানি এবং শ্রমমান পরিদর্শনে (ইন্সপেকশন) ধীরগতি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একটি জবাব দিয়েছি এবং ৩০ জানুয়ারির মধ্যে আরও বিস্তারিত জানাব। এ পুরো বিষয়টি আগামী মার্চে আইএলওর গভর্নিং বডির বৈঠকে আলোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি দেখার জন্য আইএলও ডাইরেক্ট কন্ট্যাক্ট মিশনের অধীনে তার নিজস্ব কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিল। সে সময় তাদের মতামত নেতিবাচক হওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল লেবার কনফারেন্সের রিপোর্টে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি স্পেশাল প্যারাগ্রাফ সংযুক্ত করা হয়।’ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ওই স্পেশাল প্যারাগ্রাফ বাদ দেওয়া হলেও এখানকার শ্রম পরিস্থিতি অনেকেই নজরে রাখছে বলে তিনি জানান।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে আইএলও বাংলাদেশের জন্য ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করলে সেটি একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

ইনকোয়ারি কমিশনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্ট কন্ট্যাক্ট মিশনে আইএলওর নিজস্ব কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করে কিন্তু ইনকোয়ারি কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। সাধারণত এ কমিশনের নেতৃত্ব দেন সাবেক কোনো মন্ত্রী বা বিচারক এবং তাদের রিপোর্টটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে থাকে।’

রাজনীতি ও আইএলও

আইএলওতে রাজনৈতিক প্রভাব প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইএলও একটি রাজনৈতিক সংস্থা। এখানে বিষয়বস্তু যতটুকু গুরুত্ব বহন করে, তার চেয়ে বেশি জরুরি একটি দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের গভীরতা।’ আইএলও গভর্নিং বডিতে যে দেশের বেশি বন্ধু থাকবে তার জন্য সেখানে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তত সহজ হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘যে পাঁচটি দেশের শ্রমিক সংগঠন অভিযোগ করেছে তার মধ্যে যেমন পাকিস্তান আছে, আবার অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে ভারত আইএলওতে আমাদের সমর্থন দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে।’

ট্যাগ »

সর্বশেষ..