বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বারোপের তাগিদ

অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন চালিকাশক্তিকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। এটি করতে বাংলাদেশের সামনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ জন্য অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাজারের সামনেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সেবা প্রদানের মানসিকতা বাড়ানোর কথা বললেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।

একইসঙ্গে  বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তিতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করার তাগিদ দিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা। গতকাল ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন বাংলাদেশ’ ২০২১ উদ্বোধনী দিনে এসব কথা বলেন তারা।

রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিনিয়োগ সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটির আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশে কার্যরত বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের দুই হাজার ৩৩৫ জন নিবন্ধন করেছে।

গতকাল দিনব্যাপী পাঁচটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সৌদি আরবের যোগাযোগ ও লজিস্টিক সার্ভিসমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সালেহ বিন নাসের আল যাসের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত রবার্ট চ্যাট্টারটন ডিকসন বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। নীতি সংস্কার করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বন্ড মার্কেট উন্নয়নের কথাটি ভাবতে হবে। এগুলোর উন্নয়ন হলে যুক্তরাজ্যেও অনেক বিনিয়োগকারীই আগ্রহী হবে বাংলাদেশের প্রতি। তারা বিনিয়োগের পরিবেশ খুঁজছে।

পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে অনেকটা সুর মিলিয়ে বিশ্বব্যাংকের মারসি মিয়াং টেমবন বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা নিশ্চিতে নীতিমালা সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক গত ৫০ বছর ধরে রয়েছে। আমরা পরবর্তী ৫০ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিন্তা করছি। এ জন্য ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প শুরু হয়েছে সবুজ বিনিয়োগের জন্য।

জাপানের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জাইকা) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বিভিন্ন ইউটিলি সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যোগাযোগ কাঠামো দুর্বল। বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের প্রক্রিায় যথেষ্ট দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। এগুলো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (বেজা) সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সব কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে গুরুত্ব দিতে হবে। বেজার নজরে অবশ্যই বিষয়গুলো আছে। নীতিমালা বাস্তবায়নে নজরদারি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এটি বড় প্রয়োজন। সরকারের এই সক্ষমতা রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান হলে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি বিনিয়োগ আকর্ষণের দেশে পরিণত হবে। একটি ব্র্যান্ড হবে। অনুষ্ঠানে জাপানের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনের ঢাকা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শিনিচি নাগাতাও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বন্দরসহ বহু বড় বড় প্রকল্পের কাজ শেষের পথে। অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। এখানে ব্যবসা করে বিদেশে মুনাফা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সহজেই মুনাফাসহ মূল বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

সৌদি আরবের যোগাযোগ ও লজিস্টিক সার্ভিসমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার নাসের বিন সালেহ আল যাসের বলেন, বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজ করছে। সৌদি আরবের বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। সৌদি আরবে ২০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা আামাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার।

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী রেন হোংবিন, জাপানের পার্লামেন্টারি ফরেইন অ্যাফায়্যার্স কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হোন্দা তারোর রেকর্ডেড বক্তব্য প্রদর্শন করা হয়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পিয়ুশ গোয়াল অনলাইন অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি), আইএফসি এবং বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৩৪  জন  

সর্বশেষ..