বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়বে

টিফা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট (টিফা) স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সেবা প্রদান সহজ করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রায় ১৭ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার। অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট (টিফা) স্বাক্ষর করে বক্তব্যদানের সময় এ কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এতে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রেড, ট্যুরিজম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট মিনিস্টার ডান টিহান। একই সঙ্গে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় ৮০৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে, একই সময়ে ৫৯৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। কভিড-১৯-এর কারণে গত দু’বছর বাণিজ্য আশানুরূপ হয়নি। উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। বাংলাদেশ সরকার এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। আশা করা যায়, এ টিফা স্বাক্ষরের ফলে উভয় দেশ উপকৃত হবে এবং বেসরকারি খাতে আগ্রহ বাড়বে।

ডান টিহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিফা স্বাক্ষরের মাধ্যমে উভয় দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়বে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আইসিটি, হালকা প্রকৌশল প্লাস্টিক ও শিক্ষাসহ বেশকিছু সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে। অস্ট্রেলিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ। এ জন্য বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ। চলমান কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নেতৃত্বে সরকার কভিড-১৯ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। তিনি ভ্যাকসিন উৎপাদকারী দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে মানবিক কারণ বিবেচনায় বাংলাদেশে কভিড ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে সরবরাহের অনুরোধ জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশকে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে; এ জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। ২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে প্রদত্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাগত রাখবে এবং বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় এলডিসি গ্রুপের প্রস্তাবে সমর্থন থাকবে বলে আশা করছি। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানির বাজার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমাই ব্রুয়ার, ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ শফিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নার্দিয়া সিম্পসনসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..