প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

 

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋতুবৈচিত্র্যের ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা, অনিয়মিত বৃষ্টি (অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি), শক্তিশালী দেশগুলোর তৈরি ফারাক্কারূপী মরণফাঁদ, আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানি প্রত্যাহার ও প্রবাহপথের পরিবর্তন, উৎস থেকে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ হ্রাস, পলি পতন আর কূলের ভাঙনজনিত নাব্য হ্রাস, অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের গভীরতা বৃদ্ধি, সর্বোপরি সমতলের স্বাদু পানি অঞ্চলে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসন প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশের কৃষক দিন দিন পানিহারা হয়ে পড়ছেন। ফসলের মৌসুমে পানির হাহাকার তীব্র হচ্ছে চারদিকে।

এ অবস্থায় ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরি ও বিরি পানিসাশ্রয়ী ও লবণাক্ততা-সহনশীল ধানের জাত উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতিতে ও খাদ্য নিরাপত্তায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। এ গবেষণা কর্মটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানে ভূষিত করা প্রয়োজন। তবে শুষ্ক মৌসুম ও বর্ষার অনিয়মিত আগমন, নদীর সারফেস ওয়াটার (স্বাদু পানি) ব্যাপক কমে যাওয়া, ভারত থেকে পানি আগ্রাসন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বাস্তবতায় ধান এবং অন্য সব দেশি প্রজাতির বীজ সংরক্ষণ ও নতুন দেশীয় উদ্ভাবনকে

টেকসই করতে অঞ্চলভিত্তিক ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পরিবর্তিত জলবায়ুর অনিরাপদ বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের এখন থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। আলোচ্য বিষয়ের একটি মাত্র হতে পারে এমন আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাস ধীরে ধীরে কিন্তু কার্যকরভাবে পরিবর্তন করব যেখানে পানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসে, অন্যটি হতে পারে লবণাক্ততা ও ঋতুর অনিয়মিত পরিবর্তন সহনশীল দেশীয় ফসলি জাতের উদ্ভাবন।

আলোচনার গভীরে এলেই ধান প্রসঙ্গ আসবে। ধান চাষ অতিমাত্রায় পানিনির্ভর। তাই ভাতপ্রধান জাতিগুলো খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম শিকার হবে। এটা এমন এক ফসল যেখানে স্থির কিংবা বদ্ধ পানি দরকার। এটাই প্রধান সমস্যা। ৫০ বছর পর বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদনের পানি আসবে কোথা থেকে? সেই সময়ের চাহিদার একটা ট্রেন্ড বের করা সম্ভব হলেও জমির ক্রমবর্ধমান অনুর্বরতা, নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং কেমিক্যাল নির্ভরতার কারণে উৎপাদন কেমন হবে, সেই ট্রেন্ড বের করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে!

উন্নত বিশ্ব বহু আগে থেকেই ধান চাষকে নিরুৎসাহিত করে গম, আলু, জব, ভুট্টা বা অন্য ফসলকে প্রধান খাদ্য তালিকায় ঠাঁই দিয়েছে। এটা যেমন হয়েছে প্রাকৃতিকভাবে, তেমনি হয়েছে বহু বছরের সুনিয়ন্ত্রিত কর্মসূচির মাধ্যমে। ঠিক যেভাবে ইরি, বিরি ও বারি ধানের ওপর উচ্চমান গবেষণা চালিয়ে উফশী এবং লবণাক্ততা সহায়ক জাত বের করেছে, কিংবা গাছের দৈর্ঘ্য ছোট করে পানিনির্ভরতা কিছুটা কমিয়েছে, একইভাবে গমসহ পানিনির্ভর শস্যের ওপর মৌলিক গবেষণা করা দরকার হয়েছে, যাতে তুলনামূলক কম

শীতেও (বা নাতিদীর্ঘ শীতকালীন সময়ে) বাংলাদেশের মাটির অণুজীব ও উর্বরতার নিরিখে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

বিবিধ কৃষি প্রসঙ্গ: তিন দশক আগেও আমাদের দেশে শীতকালীন ফসল হিসেবে ব্যাপকভাবে গম, কাউন, ভুট্টা, বিভিন্ন ডাল বীজ (হেলেন, মটর, খেসারি, মুগ) আবাদ হতো, যার প্রতিটিই প্রধান খাদ্য তালিকায় আসার দাবিদার। আর এসব ফসল অতিসামান্য পানিনির্ভর, গবেষণার মাধ্যমে যাকে আরও উন্নত করা সম্ভব ছিল এবং আছে। কিন্তু সার্বিক অবহেলায় আর দূরদৃষ্টির অভাবে প্রতিটি ফসলই আমরা হারিয়েছি। আশার কথা,

আমরা বিনিময়ে আলু ফসল পেয়েছি, যা আরেকটি পানিসাশ্রয়ী ফসল।

সরকারিভাবে কিছু প্রণোদনা এ প্রাপ্তির পেছনে অবদান রেখেছে, তেমনি আমাদের কৃষকরা আলুকে অর্থকরী ফসল আর খাদ্য দুটি পর্যায়েই আদৃত করেছেন। তাই সামাজিক আন্দোলনে এ স্লোগান বেশি করে আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান’ একটি নীরব সবুজ বিপ্লবে রূপান্তরিত হয়েছে। আবারও বলছি, সরকারগুলোর ভূমিকাকে আমি সম্মানের চোখে বিবেচনা করি।

তবে কথা থেকে যায়, আলুকেন্দ্রিক সবুজ কৃষিবিপ্লবের তিন দশক পর আজ আবার আমাদের প্রাপ্তির হালখাতা খুলে বসা প্রয়োজন। ১. আমরা কি চাহিদার সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে উৎপাদন করছি? ২. কৃষকের ঘাম ঝরানো উৎপাদনের আর্থিক মূল্য নিশ্চিত করছি? ৩. উন্নততর প্রজাতির আলু উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজেছি? ৪. আলু সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করেছি? ৫. উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের নিরাপত্তা মজুদ কিংবা বাজারমূল্যে দিয়েছি?

এ মৌলিক প্রশ্নগুলো সম্পূরকভাবে প্রধান সব ফসলের দৃষ্টিকোণ থেকে আসতে পারে। শুধু আলু নয়, মৌসুমে ধানের জন্যও উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খেঁাঁজা জরুরি। একটি পণ্যের বাজার সূচনা করে বসে থাকলে হবে না, এর বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি। এটা বাজার অর্থনীতিরও একটি উপাদান।

কৃষক আজ দুর্দশাগ্রস্ত। ৮-৯ টাকা উৎপাদন খরচের আলুর বাজারমূল্য কৃষকের হাতে ভরা মৌসুমে (সোর্স এন্ড) তিন-চার টাকা, এটি অস্বাভাবিক। আমরা ফলন মৌসুমে ধানচাষিদেরও নিরাপত্তাহীন করেছি। সহজ কথায়, খামখেয়ালিপনা আর অবহেলায় কৃষির মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে। জটিল হচ্ছে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ।

বাজার চাহিদা ও রফতানি সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ, কৃষককে বীজ নিরাপত্তা, সেচ ও সারের নিশ্চয়তা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম দাম নির্ধারিত ন্যায্য লভাংশ্যসহ নিশ্চিত করা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, মজুদকরণ আর পণ্য পরিবহন সহজীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এর বাইরে আছে বীজ নিরাপত্তা, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার রোধ, জৈবসারের সুলভতা নিশ্চিতকরণ, জিএমও জাতের ফলন বিনা নিরীক্ষা অথবা স্বল্পমেয়াদি

নিরীক্ষায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো (এতে বীজের জন্য এনজিও-নির্ভরতা বাড়ছে, উৎপাদন খরচ

বাড়ছে এবং দেশি ফলনে ডিসকন্টিনিউটির জন্য দেশি প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে)।

বাজার চাহিদা নির্ণয়ের ব্যাপারটি আসলেই সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বর্তায়। কৃষক, তার সামর্থ্য, বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনের মাত্রা ও প্রয়োজনীয়তা, সংরক্ষণের সক্ষমতাÑএসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। এতে একটি ফসলের সারপ্লাস হয়ে যাওয়া কমবে, বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে অন্য ফলনের আমদানি-নির্ভরতা কমবে। একটি উদাহরণ হতে পারে আলু ও পেঁয়াজ। শীত মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য হলেও একদিকে একটির বাম্পার ফলন হচ্ছে, যাকে অবকাঠামোর (কোল্ডস্টোরেজ, সংখ্যায় ও লোকেশনভিত্তিক) অভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পেঁয়াজ উৎপাদন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, বিশেষ কারণে অনুৎসাহিত বটে এবং পেঁয়াজ আমদানিতে আমাদের একটি ভালো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে।

একটি সমন্বিত ফলন সহায়ক কৃষি পরিকল্পনা এবং পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বাজার চাহিদা ফোরকাস্ট করে শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। কৃষক নিজ নিজ স্থানীয় কৃষি অফিসে ফলনের রকমভেদ, আবাদ করা জমি এবং আনুমানিক উৎপাদনের আভাস রেজিস্টার করবেন। বাজার চাহিদা ফোরকাস্ট অনুযায়ী আঞ্চলিক কৃষি অফিস সেটা উৎসাহিত বা অনুৎসাহিত করবে। এতে করে ফলনের উৎপাদনে বৈচিত্র্য আসবে, বিশেষ ফলনের সারপ্লাস হবে না। এর অন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটা কৃষি খাতে অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা শিল্পপতিদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। উদাহরণ হলো, কোল্ডস্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট-ইফিশিয়েন্ট হবে। আগের বছরের অতিরিক্ত পণ্য খালাস না হওয়ার কারণে নতুন বছরে স্টোরেজ মালিকের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে না। অন্যটি হলো, পরিবহন চাহিদা নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় ট্রান্সপোর্টেশন রোধ। এতে একদিকে অপ্রয়োজনীয় ফলন নিরুৎসাহিত হবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ফলনের ওপর কৃষক মনোযোগ হারাবে না; সেই সঙ্গে কৃষি অবকাঠমো উন্নয়নে বিনিয়োগ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়বে।

কৃষিজমির মান সংরক্ষণ, মানসম্পন্ন ও মানহীন কীটনাশক আর গুণাগুণসম্পন্ন কিংবা গুণাগুণশূন্য রাসায়নিক সারের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আবাদি জমি তার উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এক্ষেত্রে রাসায়নিক ও জৈব সারের সামঞ্জস্য নির্ণয় করতে হবে। কঠোরভাবে কীটনাশক বিপণন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাজটি সরকারকে অত্যন্ত যত্নসহকারে করতে হবে। এখানে একদিকে যেমন গবেষণামূলক কর্ম (সঠিক স্থানে অর্থ বরাদ্দ, উৎসাহ দান, রোডম্যাপ তৈরি) করতে হবে, তেমনি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষকের আঞ্চলিক বা মৌসুমি সমস্যাগুলো (বিশেষ রোগ বা কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব) যত্নসহকারে আমলে আনতে হবে। সময়মতো রাসায়নিক ও জৈবসার উৎপাদন ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

কীটনাশক ও জিএমও ব্যবস্থাপনা কীটনাশক ব্যবস্থাপনার উচ্চতর ধাপে গিয়ে এটিকে সংকুচিত করে আনতে হবে। উচ্চ মাত্রার কীটনাশক একদিকে যেমন ক্ষতিকর পতঙ্গ দমন করে, তেমনি কিছু পতঙ্গ প্রজাতিকে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে সাহায্য করে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে কৃষক একটি চক্রে পড়ে যান, যাতে তাকে বছর বছর উন্নত কীটনাশক ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। এটি কৃষি উপকরণ বিপণন কোম্পানিগুলোর শক্তিবৃদ্ধিরই ফল। খাদ্য নিরাপত্তার অতি উচ্চতর ধাপে আমাদের এ সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আসতে হবে, যেটি জৈব ব্যবস্থাপনাকে কৃষক আর কৃষিজমির মান সংরক্ষণের অনুকূলে নিয়ে আসবে।

খাদ্য নিরাপত্তার পরবর্তী ধাপে গিয়ে জেনেটিক্যালি রূপান্তরিত ফলনের জাতকে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে কিংবা এসব জাতের অনুপ্রবেশ সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে হবে, যাতে এর প্রভাব কীটপতঙ্গের জীবনচক্র, প্রাসঙ্গিক জৈব অনুষঙ্গ এবং প্রাকৃতিক খাদ্যচক্রের ব্যালান্সকে ধ্বংস করে না দেয়। এভাবে অতিরিক্ত ফলন সহায়ক সার, কীটনাশক ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করে উপযোগিতা নির্ণয় সাপেক্ষেই শুধু বাজারজাতের অনুমতি দিতে

হবে। এ ধরনের গবেষণা সুবিধা ও কাঠামো উভয়ই আমাদের অপ্রতুল।

তারপর আসবে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা, যেমন খাদ্যাভ্যাসকে পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এর প্রকৃতি পরিবর্তন করার সুদূরপ্রসারী ও বুদ্ধিভিত্তিক ব্যাপার, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পানিসাশ্রয়ী ফসলগুলোকে (যেমন, গম, আলু, ভুট্টা, কাউন ইত্যাদি) প্রধান খাদ্য তালিকায় নিয়ে আসা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষক, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার ও কৃষিবিজ্ঞানীদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মোদ্দাকথা, আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে ধানের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে, রান্না ও পরিবেশনে খাদ্য মান পুষ্টি সংরক্ষণের কথা ভাবতে হবে; চাষাবাদে পানিবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন আর তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ধীরে ধীরে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পুষ্টি ও বৈচিত্র্যনির্ভর

পরিবর্তন এবং একই সঙ্গে কৃষক ও পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থাই পারে আমাদের সার্বিক জীবনমান সচল ও সুন্দর রাখতে।

ফলনের সঙ্গে কৃষককে ধারাবাহিক সম্পৃক্ত রাখা খাদ্য নিরাপত্তার অন্য একটি বিষয় হলো কৃষককে প্রয়োজনীয় প্রধান শস্যের ফলনগুলোর সঙ্গে বছর বছর সম্পৃক্ত রাখা। একটি নতুন ফলনকে রাষ্ট্রীয় উৎসাহ আর প্রথম দিককার আর্থিক প্রণোদনার বলয়ে রেখে বিকশিত করা সম্ভব (যেমনটি আলুর ক্ষেত্রে হয়েছে বাংলাদেশে গত দশকগুলোতে)। কিন্তু সে ফলনটিই যদি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমস্যার কারণে কৃষকের মন থেকে উঠে যায়, তাকে ফিরিয়ে আনা কষ্টকর। বাংলাদেশে যেমনটি হয়েছে গম ফসলের বেলায়, যেটি কিনা অত্যন্ত পানিসাশ্রয়ী। বাংলাদেশে আজ কৃষকের সরাসরি সমস্যাগুলোর তালিকাই অনেক দীর্ঘ, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্যাসিভ সমস্যা। যেমন: ১. পণ্যেরমূল্যের তুলনায় তার পরিবহন খরচ বেশি। ২. পরিবহনের সময়, পণ্য পরিবহনের পেছনে কৃষকের শ্রমঘণ্টা অপচয়। ৩. চাঁদাবাজি (কৃষিপণ্য উৎপাদন আর তার পরিবহনে চাঁদাবাজি)। ৪. কৃষিতে বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাতাদের লোকসান (গুদামজাত ফসলের বাজারমূল্য পরিবহন খরচের তুলনায় কম তাই পণ্য খালাস হচ্ছে না, নতুন গুদাম নির্মাণ বিত হচ্ছে)। ৫. উৎপাদনকারী চাষির তুলনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের লভ্যাংশ বেশি। ৬. সার, বীজ, শ্রমিক, সেচ, কীটনাশকের দামের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। ৭. পণ্যের নিম্ন মূল্যের কারণে সৃষ্ট অপরিশোধিত কৃষিঋণের দায়ভার ইত্যাদি।

তাই দীর্ঘ মেয়াদে একটি পানিবান্ধব ফলন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইলে

প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমস্যা সমাধান করে কৃষককে প্রধান প্রধান শস্যের ফলনগুলোর সঙ্গে বছর বছর সম্পৃক্ত রাখা জরুরি।

আগামীকাল সমাপ্য

প্রকৌশলী; টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট, ভোডাফোন নেদারল্যান্ডস; সাবেক টেলিকম সলিউশন আর্কিটেক্ট, এরিকসন (নাইজেরিয়া, ঘানা, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস); কোর নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, অ্যালকাটেল-লুসেন্ট বাংলাদেশ