সুশিক্ষা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক কাপ চায়ে তোমাকে চাই

কোনো এক বর্ষণমুখর অলস বিকালে বৃষ্টিবিলাসে আপনার খুব ভালো সঙ্গী হতে পারে এক কাপ চা। শীতের রাতে কুয়াশাকে চ্যালেঞ্জ করে আপনি যখন হেঁটে চলেছেন খোলা আকাশের নিচে, তখন উষ্ণতা ছড়াতে পারে এক কাপ চা; কিংবা যদি ভোরে প্রশান্তির ঘুম ভাঙে প্রিয়জনের হাতের এক কাপ চায়ের সঙ্গে, তবে সে চায়ের গরম ধোঁয়া নিঃসন্দেহে আপনার মধ্যে রোমাঞ্চ জাগাবে। অজান্তে আপনার মন বলে উঠবে এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই।

এক কাপ চায়ের প্রতিটি চুমুকের সঙ্গে মিশে থাকে শত বন্ধুত্বের গল্প, অজস্র স্মৃতি, রঙিন মুহূর্ত ও ব্যস্ততার ছবি। ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া চা পানের বদঅভ্যাস আজ ভদ্রতা, সৌজন্য কিংবা বিলাসিতার পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎসবের মাধ্যমও বটে। এমনই একটি উৎসবের কথা বলছি আজ।

বলছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের বন্ধুদের ‘টিম উৎসব’ হয়ে ওঠার গল্প।

কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনের বিবর্ণ মলিনতা থেকে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যাওয়ার ছোট্ট প্রচেষ্টা ‘এক কাপ চা’। ক্যাম্পাস জীবনে সবে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করে চা দিয়েই ১৫ জনের স্কোয়াড নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে টিম উৎসব। বছরজুড়ে নানা সংগঠনের ঘরোয়া রীতির বাইরে খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ বাঙালি ঐতিহ্যে নিজেদের প্রথম অনুষ্ঠান করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে তারা।

চায়ের কাপে আড্ডার মাঝে হঠাৎ পরিকল্পনা, বাস্তবে রূপ দিতে সময় লাগল মাত্র পাঁচ দিন। বিশেষ কোনো দিবস বা উপলক্ষকে সামনে রেখে নয়, শুধু নিজেদের ভালোলাগা আর উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে সবার সহযোগিতায় তারা অস্তিত্বের জানান দিল। গতানুগতিক অন্য সংগঠনের সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে টিম উৎসবে আলাদা করে কেউ নেতা নয়, এখানে তারা সবাই রাজা।

লিকার চা, মসলা চা, বুলেট চা, কফি, হরলিক্স চা, আপেল চা প্রভৃতি নাম-না জানা প্রায় ডজনখানেক বাহারি চায়ের পশরা নিয়ে বসেছিল একাধিক টি-স্টল। চায়ের পাশাপাশি পিঠা ছিল ১৫ থেকে ২০ ধরনের। আরও ছিল চা-বিষয়ক দেয়ালিকা, গান ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল গ্রামবাংলার বিয়ের বাড়ির আদলে গেট সাজানো আর খড় দিয়ে তৈরি বসার জায়গা। প্রকৃতির সঙ্গে এক কাপ চা উৎসব ক্যাম্পাসের সব প্রাণে ফাগুন হাওয়ায় দোল খাওয়ায়।

কথা হলো টিম উৎসবের জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে। এক কাপ চা নিয়ে তার অনুভূতি: আমাদের লক্ষ্য যাপন নয়, উদ্যাপন। ক্যাম্পাসকে উৎসবমুখর করে রাখতে, প্রাণচঞ্চলতা বাড়াতে টিম উৎসবের এ আয়োজন। টিমের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এত সুন্দর করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

বিকাল যতই গড়াচ্ছিল, লোকসমাগম ততই বাড়তে থাকল। তাতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এত পরিশ্রম, তা সফল বলাই বাহুল্য। এ উৎসাহই তাদের নিয়ে যাবে অনেক দূরÑএমনটাই মনে করেন টিম উৎসবের আরেক সদস্য আফসান সারোয়ার। তার মতে, একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহস করে এগিয়ে এসেছি আমরা, এতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

  মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..