দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে ভুয়া ই-মেইল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋণসহ বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে চিঠি দিচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান। এসব চিঠিকে ভুয়া বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ই-মেইলকারীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ভুয়া মেইলে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা সম্প্রতি করা ব্যাংকিং অডিটে লক্ষ্য করেছি যে আপনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন করছেন। যার কতিপয় চিহ্নিত সন্দেহজনক লেনদেন নি¤েœ উল্লেখ করা হলো। যার জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকিং চ্যানেল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনার চিহ্নিত সন্দেহজনক লেনদেনগুলো দেখতে লিঙ্কে ক্লিক করুন’।

জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর এ চিঠিটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যাসহ কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়। এটি না করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঠানো চিঠিতে ‘বাংলাদেশ অডিট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ নামটি ব্যবহার করা হয়।

বাস্তবে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা নেই রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ ব্যাংকেও এ নামে কোনো বিভাগ নেই। চিঠি পাঠানোর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক মহাব্যবস্থাপক পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরে আমরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করি। স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সামাজিক গণমাধ্যমে চিঠিটি ভুয়া বলে প্রচার করা হয়। এছাড়া আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউকে অবহিত করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, বিএফআইইউকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইমেইলকারীকে দ্রুত শনাক্ত করার জন্য। তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

প্রসঙ্গত, এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। পাঠানো হয় ই-মেইল আইডি। চিঠিতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালকদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর। এমন চিঠি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সব তথ্য লিখে সরাসরি চিঠির উত্তর দিতে যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানতে পারেন, এমন কোনো চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

এরপর থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য চাওয়া হলে কয়েক ধাপে তার সত্যতা যাচাই করা হয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি ইস্যু করার পরে কয়েক মাধ্যমে জানানো হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..