প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করবে জাপান: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ ভ্রমণে জাপানি নাগরিকদের যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। খুব শিগগিরই এটি কার্যকর করা হবে।

তিন দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফিরে গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মেজবাহ উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের (২০১৫) অক্টোবরে রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। এ ঘটনার পর বাংলাদেশে জাপানি নাগরিকদের ভ্রমণ বিষয়ে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সতর্কতামূলক পরামর্শ জারি করে। এতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া জাপানি নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার জন্য বলা হয়।

‘বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় ধরনের সুসংবাদ’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান সরকার ওই অ্যাডভাইজরি (সতর্কতামূলক পরামর্শ) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপানের যে রেসট্র্রিকশন বাংলাদেশের জন্য ছিল, ইন ডুইং বিজনেস, দ্যাট হ্যাজ বিন উইথড্র। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন তাদের কোনো ধরনের রিজারভেশন আর নেই। এখন এটা ইফেকটিভ হতে যা সময় লাগবে।’

জাপান সফরকালে সে দেশের অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এটা শুনে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। সুতরাং চলমান যেসব জাপানি প্রকল্প আছে, সেসব প্রকল্পে কাজ করার জন্য জাপানি নাগরিকরা বাংলাদেশে আসবেন। তাদের নিরাপত্তার কোনো অভাব হবে না।’

মুহিত বলেন, ‘গত ১ জুলাইয়ের (হলি আর্টিজান রেঁস্তোরায় হামলা) পর জাপানের সঙ্গে আমাদের যত নেগোশিয়েশন হয়েছে, সবগুলো আমাদের দেশের বাইরে হয়েছে, থার্ড কান্ট্রিতে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য জায়গায় সব ধরনের চুক্তিটুক্তি বা আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে জাপানি কোনো প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল না। জাপানের ব্যবসায়ীরা তো অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতেন। মাঝখানে কিছুটা ছেদ পড়েছিল। এখন সেটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের মতো সরকারি পর্যায়েও অচিরেই আসা-যাওয়া শুরু হবে। আমরা চাই বাংলাদেশে বিনিয়োগের মার্কেটটি বড় করতে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য এখন সহজ হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে সিআইডির তদন্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির বিষয়ে সিআইডির প্রতিবেদন আমি দেখিনি। কাজেই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।’