সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সদ্ব্যবহার কাম্য

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। তার মধ্যে ‘বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০১৬’, ‘বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস আইন-২০১৭’ ও ‘কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৭’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন অন্যতম। লক্ষণীয়, উভয় আইনই ইংরেজি থেকে নির্যাস নিয়ে বাংলায় রূপান্তর ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। দেশে বিশেষত কৃষিতে সেচ দিতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানির অপব্যবহার হচ্ছে, তাতে প্রাকৃতিক সম্পদটি সুব্যবস্থাপনায় আনতে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বাণিজ্য সংগঠন আইনটির ইংরেজি সংস্করণ রচিত হয়েছিল ১৯৬১ সালে। ফলে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার জন্য আইনটি যেমন বাংলায় রূপান্তরের দরকার ছিল, তেমনি চলমান প্রেক্ষাপটে হালনাগাদেরও প্রয়োজন দেখা দেয়। অবশ্য সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ বোধ করি ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ গঠনের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরটি এরই মধ্যে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অলস থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ দিয়ে ওই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জানা যায়, প্রতিবছর ২০০ কোটি (দুই বিলিয়ন) ডলার নিয়ে পাঁচ বছরে গঠন করা হবে এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারের এ তহবিল। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এতে অর্থনীতির ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না; বরং জনস্বার্থ ও যে কোনো জরুরি কাজে এর অর্থ ব্যবহার করতে পারবে সরকার। বিশেষত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় বিদেশি সহায়তা নেওয়ার শর্ত পূরণে তহবিলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রাথমিকভাবে আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
কথা হলো, ‘সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের’ ধারণা নতুন কিছু নয়। অনেক দেশেই চালু রয়েছে এ ধরনের ব্যবস্থা। তার মানে কীভাবে এ ধরনের তহবিল ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে ওইসব দৃষ্টান্ত থেকে দিকনির্দেশনা মিলবে। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকেও বলা হয়, ওই অর্থ ব্যবহারে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’র সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত পদক্ষেপ গৃহীত হবে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল আমাদের রিজার্ভ। সুতরাং ধরে নেওয়া যায়, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিক নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি ও বর্ধিষ্ণু রিজার্ভ পর্যবেক্ষণের পরই নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। এর উপযোগিতা নিয়েও বিতর্ক তোলা বৃথা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান। সেখানে বিদেশিদের সঙ্গে ম্যাচিং ফান্ড পরিচালনাসহ নানা ক্ষেত্রে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ব্যবহারের যে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, তার কোনোটিই খোঁড়া নয়। তবু আমাদের সতর্কতা এজন্য যে, তহবিলটি যেন ‘অন্যান্য ব্যয়’ তহবিল মনে না করেন কেউ। বরং একে বিশেষ সহায়ক কর্মসূচির আওতাভুক্ত করে নেওয়া দরকার। সেজন্য আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশের সঙ্গে আলোচনা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্যান্য ফান্ডের সঙ্গে এর সমন্বয় করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মাঝে অন্যতম ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকে। এক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতাও গড়ে তোলা চাই। সে ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’র সদ্ব্যবহার ঘটানো যায় কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..