প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী স্থলবন্দরে ভিসা সুবিধা চালুর দাবি

প্রতিনিধি, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও ভারতের ফুলবাড়ী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন রুট দিয়ে ভিসা চালুকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স ভবনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিনের সভাপতিত্বে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভিসা সুবিধা চালু হলে ভারতের সঙ্গে ব্যবসার পাশাপাশি যাতায়াতও শুরু হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে কভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়। করোনা সংক্রমণ কমে গেলে ২০২১ সালের শুরুর দিকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরের রুটে ভিসা সুবিধা চালু হলেও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা দিয়ে এখনও ভিসা সুবিধা চালু হয়নি। তাই দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত, নেপাল এবং ভুটানের ব্যবসাসহ নানা কাজে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে এ ইমিগ্রেশন রুটে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ৫ শতাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসার কাজে ভারতসহ নেপাল-ভুটানে যেতে পারছেন না। ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক কাজে বিঘœ ঘটছে। সেই সঙ্গে সরকারও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে।

এছাড়া চার দেশের শিক্ষার্থী, ভারতে চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া মানুষজনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকেরা ভারতের সিকিম, দার্জিলিংসহ নানা স্থানে এবং নেপাল-ভুটানে যাতায়াত করেন। এই রুটে ভিসা না দেয়ায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয়রাসহ দেশের হাজারও মানুষ। এ ব্যাপারে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ওজন স্কেলে কারচুপির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণে লোকসান হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী পথে বসতে শুরু করেছেন। এ ঘটনায় স্থলবন্দরের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদসহ সেখানকার কর্মকর্তারা জড়িত আছে। ওজন স্কেলে কারচুপির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে এ ঘটনার দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে এ ধরনের কাজ আর কেউ করার সাহস না পায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি শরিফ হোসেন, সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান শেখ, পঞ্চগড় শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বারের সদস্য আবু তোয়বুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।