সারা বাংলা

বাইশরশি জমিদার বাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণার দাবি

কে এম রুবেল, ফরিদপুর: প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বাড়িটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

এ দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করা হয়েছে। ৩৪ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ‘বাইশরশি জমিদার বাড়ি রক্ষা ও সংরক্ষণ আন্দোলন’-এর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘ফরিদপুরের সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যপ্রেমী সংগঠন’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। হাজারো কণ্ঠে ‘বাইশরশি জমিদার বাড়ি, সবাই মিলে রক্ষা করি’ সেøাগানে মুখর পরিবেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আন্দোলনকারীরা জমিদার বাড়ির চত্বরে মানব বলয় রচনা করে দীপ্ত কণ্ঠে শপথ নেয়, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। আন্দোলন যতদিন চলবে, ততদিন রাস্তায় থাকব।’ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে না ফেরার কথা বলেন।

বাইশরশি জমিদার বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাইশরশি জমিদার বাড়ি শুধু সদরপুরের নয়, সারাদেশের একটি ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য রক্ষা করতে যা প্রয়োজন, তা আমরা করব।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই, আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ জমিদার বাড়ি রক্ষা করাসহ এ এলাকায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।

আরও বক্তব্য দেন, বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণপূর্বক পর্যটর কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান আন্দোলনের মুখপত্র সেপটোস ফোরের সভাপতি হাওলাদার শামীম আহমেদ। বক্তব্য দেন ভাঙ্গা কেএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী, বাইশরশি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এনামুল হক ফকির, কাশিয়ানীর ইয়ার আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, ভাঙ্গা সিপিবির সদস্য প্রভাষ মালো, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী তৌহিদুর রহমান, কৃষক গোলাম হুসাইন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এ ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বাড়িটি রক্ষা না করে বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে।

বাইশরশি জমিদার বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদারের হাতে দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ঘুরি-ফিরি ফরিদপুর, আমরা করবো জয়, উৎস ফরিদপুর, বাংলা থিয়েটার, উৎসর্গ পরিবার, উই কেয়ার, মানবকল্যাণ সমিতি, ফরিদপুর সিটি পেজ, ফরিদপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও সমকাল সুহƒদ সমাবেশ।

এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে, ট্রাভেল গ্রাম বাংলাদেশ, হিমাদ্রী ট্রাভেল, কানামাছি ভোঁ ভোঁ ও জাহাজী নামের চারটি ভ্রমণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন।

পূরবী গোলদার বলেন, ওই সম্পত্তি ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি। এটি এ অঞ্চলের জমিদারদের সর্বশেষ নিদর্শন। এটি বেহাত হয়ে গেলে এ এলাকায় বাইশরশি জমিদারদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..