প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বাউফলে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সোহেল হোসাইন, বাউফল (পটুয়াখালী) : কারখানা নদীর ভাঙনে পটুয়াখালীর বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর লঞ্চঘাট এলাকায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি ও বাড়িঘর। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া উপজেলার নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর উপক‚লসংলগ্ন রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও আবাদি জমি ঝুঁকিতে রয়েছে নদীভাঙনে। ভাঙন রোধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলে বাউফল উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ৩টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ফসলি জমি, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা নদী ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার নদীভাঙন আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন। অপরদিকে বর্ষার মৌসুম শুরু হলেই দেখা যায় নদীগুলোর জোয়ার-ভাটায় উপক‚লবর্তী ফসলি জমি, গাছপালা, বাড়িঘর ও গবাদিপশুর বাসস্থান নিয়ে আতঙ্কে থাকে নদীর উপক‚ল তীরবর্তী বসবাসরত মানুষ। রাত হলেই ঘুম চলে যায় নদী ভাঙার শব্দে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা কাছিপাড়া ইউনিয়নের বাহেরচর লঞ্চ ঘাটের উপক‚লসংলগ্ন অবস্থিত ২নং হিস্যাজাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া (গোপালিয়া) বাজার, ১১নং পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা এবং ১২৮নং চর রাঘুনদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কারখানা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। খুব দ্রæতই ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না নিলে, ভাঙনের কবলে পড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কারখানা নদীর ভাঙন চলমান রয়েছে। শত শত পরিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ভ‚মিহীন হয়েছে অনেকেই। তিনি আরও বলেন, এ ভাঙন রোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা থেকে পশ্চিম কাছিপাড়া গোপালিয়া-চর রঘুনদ্দি, বাহেরচর বাজারসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বহু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাবে কারখানা নদীতে।

কাছিপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন আহম্মেদ বলেন, অনেক বছর ধরেই কারখানা নদী ভাঙন হচ্ছে। এ নদীতে হাজিপুর নামক গোটা গ্রামটি বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব ও ভ‚মিহীন হয়ে গেছে অনেক পরিবার। যাযাবরের মতো রয়েছে অনেক পরিবার। শত শত একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে কারখানা নদীতে।

অপরদিকে, নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিমদি গ্রাম তেঁতুলিয়ার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরব্যারেট ও চরওয়াডেল দ্রæত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চন্দ্রদ্বীপের শত শত একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আফরোজা বেগম বলেন, ভাঙন আতঙ্কে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এলাকাবাসী ভাঙন রোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

নদীভাঙন বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া, চন্দ্রদীপ ও নাজিরপুর ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধের বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।