শোবিজ

বাউলসম্রাট স্মরণে ‘মহাজনের নাও’

শোবিজ ডেস্ক: সুবচন নাট্য সংসদের আলোচিত প্রযোজনার নাটক মহাজনের নাও। বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন, সংগীত ও দর্শন নিয়ে গড়ে উঠেছে নাটকটির গল্প। এটি রচনা করেছেন শাকুর মজিদ। নির্দেশনায় রয়েছে সুদীপ চক্রবর্তী। আজ বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির ১২৫তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রদর্শনী শাহ আবদুল করিমের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন আহাম্মদ গিয়াস, আসাদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম বাবুল, আনসার আলী, সোনিয়া হাসান সুবর্ণা, ইমরান হোসেন, ইমতিয়াজ, সোহেল, রাসেল, তানভীর প্রমুখ। এছাড়া মঞ্চায়ন শেষে শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন এবং নাটকটি ১২৫তম সন্ধ্যা পূর্ণ করা নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, তার জীবনের তত্ত্বকথা ও জীবনদর্শন নিয়ে এ নাটকটি রচনা করেন শাকুর মজিদ। নাটকে তুলে ধরা হয়েছে বাউল করিম রাখাল বালক। সে গরুর পাল নিয়ে ছুটে চলে গ্রামের মেঠোপথে; দোতারা হাতে নদীর তীরে হাঁটে, হাঁটতে হাঁটতে গান বাধে। তার গানে থাকে ভাটির কথা, অনাহারী কৃষকের কথা। গানে গানে মানুষের দুঃখে করিম কাঁদে। করিমের কণ্ঠে উঠে আসে হাওর প্রদেশের গান। গানবাজনা করে বলে ভাটি গ্রাম উজানধরের মসজিদের ইমাম বাউল করিমকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিতে চান। আকবর, রুহী, বনেশসহ ভাটি অঞ্চলের বাউলের দল করিমের পিছু পিছু দলে এসে ভেড়ে। সবাই মুর্শিদ মেনে করিমের শিষ্য হতে চায় এবং ভাটি অঞ্চল আর হাওর প্রদেশের নদীর তীরে রাখাল বালক থেকে দিনে দিনে তার বাউল হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। পরিণত বয়সে এসে করিমের মনে ভাবনার উদয় হয়, কোনো এক মহাজনের কাছ থেকে পাওয়া নৌকা, যে নৌকার মালিক তিনি নন, চালিয়ে নেওয়াটাই ছিল শুধু তার দায়িত্ব। সুবচন নাট্যদল তার জীবনের গল্প এভাবেই দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। ২০১০ সালের ১৮ জুন নাটকটি প্রথম মঞ্চে নিয়ে আসে সুবচন নাট্য সংসদ। তারপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে নাটকটি বহুবার মঞ্চস্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুটি প্রদর্শনী ছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, জলপাইগুড়ি, আসাম, কলকাতা, লন্ডন এবং বাংলাদেশের কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, সিলেট, সাভার, বিয়ানীবাজার, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় নাটকটির প্রদর্শনী হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় উজানধল গ্রামে ১৯১৬ সালের ১ মার্চ সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি রচনা করেন আফতাব সংগীত, গণসংগীত, কালনীর ঢেউ, ধলমেলা, ভাটির চিঠি, কালনীর কূলে ও শাহ আবদুল করিম রচনাসমগ্র নামে গানের বই। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম ও ভালোবাসার পাশাপাশি শাহ আবদুল করিম গানে গানে কথা বলেছেন অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান এ কিংবদন্তি বাউলশিল্পী।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..