দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বাছবিচার ছাড়াই বিনিয়োগে ঝুঁকি বাড়ছে বিমার শেয়ারে!

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: এক মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৮৯ শতাংশ। আর এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৬৯ শতাংশ। একই সময়ে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৬৭ শতাংশ এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বাড়ছে ৪৬ শতাংশ। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারদর। যে কারণে এসব শেয়ারে ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত তিন মাসের হিসাবে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ২১৩ শতাংশ। একইভাবে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায় ১৩৬ শতাংশ। এ সময়ে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বিমার শেয়ারদরই বেড়েছে, যা অন্যান্য খাতের কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির তুলনায় অস্বাভাবিক।

বর্তমানে বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারের গড় মূল্য আয় অনুপাত বা পিই-রেশিও ২০ এর কাছাকাছি। সে হিসাবে এসব শেয়ার এখনও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় (দর বৃদ্ধির হার)  অনেক বিমা কোম্পানির শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এককভাবে বেশকিছু কোম্পানির পিই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যে কারণে কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে কারণে হাউস থেকে সতর্ক করা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

এদিকে শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণে সম্প্রতি অন্যান্য খাতের পাশাপাশি কয়েকটি বিমা কোম্পানিতে মার্জিন ঋণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। এতে গত ১২ অক্টোবর পুঁজিবাজারে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়। জানা যায়, এর পরের দিন ইউসিবি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত পাশা। তিনি বলেন, বিএসইসি থেকে ডাকা হয়েছিল কফি খাওয়ার জন্য। এর বেশি কিছু নয়।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ সমস্যার বিষয়টি বিবেচনা করে ঋণ নিয়ে বিমা খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করতে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ বিদ্যমান বাস্তবতায়, বিমা কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির তেমন কোনো কারণ দেখছি না।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা বুঝে না বুঝে এখনও এ খাতের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন। ২০১০ সালে অনেকেই এভাবে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে উল্টো বিপদে পড়ে যায়। কারণ যখন বাজারে পতন নেমে আসে তখন তারা ঋণ ফেরত দিতে পারেন না। অন্যদিকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা আমাদের ওপর নানা নিয়মনীতি চাপিয়ে দেন।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, সম্প্রতি অনেক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। সাধারণ বিনিয়োগকারী তথা সার্বিক পুঁজিবাজারের জন্য এটি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কোনো চক্র মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম এমন ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে কিনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তা খতিয়ে দেখা উচিত।

তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে বিমা খাতের ব্যবসায় এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  তাদের মতে এ বছর বিমা কোম্পানিগুলোর আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারের দাম ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত কোন যুক্তিতে বাড়ছে, তা সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত।

এ প্রসঙ্গে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, আমার জানা মতে এখন অধিকাংশ বিমার ব্যবসা আগের চেয়ে ভালো। সে কারণে এ খাতে আস্থা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অনেক বেশি। এসব শেয়ারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকা দরকার। শুধু বিমা নয়, আমাদের দেশের অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই গুজবে কান দিয়ে বা অন্যের কথায় বিনিয়োগ করেন। তাদের এ ধরনের মনোভাব থাকা ঠিক নয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..