মার্কেটওয়াচ

বাজারকে অবহেলিত রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে পুঁজিবাজার। এর কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তাহলে কী এটি অবহেলিতই থাকবে। আবার আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলছি। সেটাই যদি আশা করি, সেক্ষেত্রে বাজারকে অবহেলিত রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটাকে বিচ্ছিন্ন রাখলে চলবে না। কারণ লাখ লাখ বিনিয়োগকারী এখানে রয়েছেন এবং লাখো কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সালাউদ্দীন চৌধুরী এবং কালের কণ্ঠের সিনিয়র বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদী।

জাকির হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারে কাঠামোগত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, এখনও তা সমাধান করা হচ্ছে না। ২০১০ সালে যেসব কারণে বাজারে ধস হয়েছিল, এ ৯ বছরে বেশিরভাগ সমস্যাই রয়ে গেছে। অর্থাৎ ২০১০ সালের পর যে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল, বিশেষ করে বাজার পরিপালনে, নীতিতে, সচেতনতায় এবং বিনিয়োগ শিক্ষাসহ আরও বিষয়ে, এ ৯ বছরে কোনো উন্নতি করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেটের সঙ্গে বাজারের একটি সম্পর্ক রয়েছে। মানি মার্কেটে তারল্য সংকট রয়েছে। এর একটি প্রভাব বাজারে রয়েছে। এরপর বেসরকারি খাতে আশানুরূপ ক্রেডিট গ্রোথ দেখা যাচ্ছে না। এখন বেসরকারি খাতে ক্রেডিট গ্রোথ ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এটা আসলে কখনও এ রকম ছিল না। এ বিষয়েও নজর দিতে হবে। আবার শোনা যাচ্ছে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিতসহ মোট ৬১টি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে প্রায় দুই লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃদ্ধ রয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে নিতে চায়। যদি এটা হয়, তাহলে তারল্য সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করি।

অধ্যাপক সালাউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক পুঁজিবাজারেই ভয়াবহ পতন হয়েছে। সেসব পুঁজিবাজার অল্প সময়েই আবার ভালো অবস্থানে আনা হয়েছে। দেখা গেছে, সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যখনই ওইসব দেশের বাজারে সমস্যা দেখা দেয়, তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে আসে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এগিয়ে আসা উচিত। কারণ মানি মার্কেট ক্যাপিটাল মার্কেটের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ আরও যারা বাজার-সংশ্লিষ্ট রয়েছেন তাদের সবার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে বাজার তার প্রাণ ফিরে পায় এবং বিনিয়োগকারীরাও আস্থা ফিরে পায়। 

ফারুক মেহেদী বলেন, পুঁজিবাজার প্রায় ধ্বংসের পথে। এক থেকে দেড় বছরে প্রায় দুই হাজার সূচক পড়ে গেছে। বাজার সামনে উন্নতি হবে কী বরং আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে অর্থনীতির উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিদেশিরাও এ অগ্রগতির প্রশংসা করছেন। জিডিপির গ্রোথ, রেমিট্যান্স ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে, অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাজার শক্তিশালী হচ্ছে না। আসলে ২০১০ সালের বাজার ধসের পর আর কোনো উন্নয়ন দেখছি না। যখন বাজার খারাপ অবস্থানে থাকে, তখন দেখা যায় এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। কেন বাজার খারাপ হওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না?  অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে পুঁজিবাজার। এর কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তাহলে কী এটি অবহেলিতই থাকবে। আবার আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলছি। সেটাই যদি আশা করি, সেক্ষেত্রে বাজারকে অবহেলিত রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটাকে বিছিন্ন রাখলে হবে না। কারণ লাখ লাখ বিনিয়োগকারী এখানে রয়েছে এবং লাখো কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। 

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..