সম্পাদকীয়

বাজারভিত্তিক জনশক্তি তৈরিতে জোর দিন

বাংলাদেশে বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশকাল (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) বিরাজ করছে। কিন্তু এটি আজীবন থাকবে না। কয়েক বছরের মধ্যেই এ সুফল শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলোÑবাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গরূপে এ লভ্যাংশ কাজে লাগাতে পারেনি। এর প্রধান কারণ, বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির চাহিদামাফিক দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারছে না। শিক্ষাব্যবস্থার এমন দৈন্য কাম্য নয়। বাজারের চাহিদা মোতাবেক জনশক্তি তৈরিতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘সিপিডির সংলাপে বক্তারা: দক্ষতার অভাবে দেশের বিপুল জনশক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য উল্লেখ করে জানানো হয়, দেশের শিল্প ও সেবা খাতে যে ধরনের

জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, দেশে সে ধরনের দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে মূলত দায়ী আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সার্টিফিকেটনির্ভর। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রায়োগিক কোনো জ্ঞান অর্জন হচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতই মনে হয়। কারণ, দেশে প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি তৈরি হয় না বিধায় ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে মধ্যম সারির ম্যানেজার হায়ার করতে হচ্ছে। আর এসব ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মীদের বেতন-ভাতাও অনেক বেশি। ফলে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স তারা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন উপাত্তই বলছে, ভারতে বছরে বাংলাদেশ থেকে রেমিট্যান্স যায় চার বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর বাইরে অবৈধ উপায়ে আরও অর্থ সেখানে পাচার হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর বাইরে শ্রীংলকায়ও বেশ রেমিট্যান্স যাচ্ছে দেশ থেকে। অথচ দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে এ অর্থ দেশেই থাকত। পাশাপাশি এসব দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়েও বাড়তি রেমিট্যান্স পাওয়া যেত। কিন্তু এর কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বক্তারা উল্লেখ করেছেন, দেশে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণকেন্দ্র জরুরিভিত্তিতে স্থাপন করা উচিত বলে মনে করি। পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় জনবলের বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় কারিকুলাম চালু করে শিক্ষার্থীদের সে বিষয়ে প্রায়োগিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করি। এটা করা গেলে দেশেই যেমন দক্ষ যুব জনশক্তি গড়ে উঠবে, তেমনি শিক্ষিত বেকারত্বের হারও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..