মার্কেটওয়াচ

বাজারের ৮০ শতাংশ কোম্পানিই মানহীন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৮০ শতাংশই মানহীন। এছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা অদক্ষ। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না। যে কারণে বাজার তার গতি পাচ্ছে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে। মোশতাক সাদেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মাহমুদ হোসেন, এফসিএ এবং কোম্পানি ও সিকিউরিটিজ আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এএম মাসুম।
মাহমুদ হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারের এ অবস্থার জন্য বিশেষ করে বাজার বিশ্লেষকরা দায়ী করছেন মানহীন কোম্পানিগুলোকে। তাদের মতে, বাজারে ৮০ শতাংশ কোম্পানিই মানহীন। পরিচালকদের অদক্ষতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না। বাজারে এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে বাজার টেনে তোলা হয়। এসব কারণেই বাজারের আজ এমন অবস্থা। আসলে তাদের বাজার বিচার-বিশ্লেষণকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। আমি তাদের সঙ্গে একমত। সম্প্রতি সরকারি বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের আইন অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। এসব অর্থ সরকারি বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক, অন্যান্য উন্নয়নমূলক এজেন্সি ও দেশের সিপিডির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। আবার যদি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ ৬০ শতাংশ সুবিধা ভোগ করবে; বাকি অর্থ যারা দুর্নীতি করে, তাদের হাতে চলে যাবে। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। যেখানে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে তারল্য সংকট রয়েছে। এখন যদি এ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়, সেক্ষেত্রে মানি মার্কেটে আরও তারল্য সংকটে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এএম মাসুম বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। বিশ্ব পুঁজিবাজার লক্ষ করলে দেখা যায়, ওইসব পুঁজিবাজারে ৭২ থেকে ৮০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আর ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। যখন পুঁজিবাজার নি¤œগতির দিকে থাকে, তখন মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু পুঁজিবাজারে তেমন ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ড নেই এবং বাজার ভালো করার ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকাও দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কোম্পানি ব্যাংক, আর্থিক ও বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব খাতের কোম্পানিগুলো যদি ভালো না করে, তাহলে বাজার কীভাবে ভালো হবে। আবার গ্রামীণফোন নিয়ে একটি সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাবে বাজারে যথেষ্ট নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..